যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরদিনই লেবাননে হামলা, নিহত ২৯
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : জুন ২১, ২০২৬
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার এক দিন পর দক্ষিণ লেবানন ও পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকায় ইজরায়েলি হামলায় ২৯ জন নিহত হয়েছে।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ জেলায় ইজরায়েলি হামলায় ১৬ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, টায়ারের বারিশ গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় একই পরিবারের ৪ সদস্য নিহত হয়েছে। এটি স্পষ্ট গণহত্যা।
এছাড়া সিডন শহরের কাছের একটি গ্রামে হামলায় ৭ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছে। টায়ার জেলার শাহুর পৌরসভায় একজন এবং পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকার সোহমোর শহরে একজন নিহত হয়েছে।
লেবাননের সেনাবাহিনী বিবৃতিতে জানিয়েছে, কফর রুম্মান-নাবাতিহ সড়কে ইজরায়েলি বিমান হামলায় তাদের একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছে।
সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, ইজরায়েলের এই বর্বর হামলার লক্ষ্য হলো লেবাননে স্থিতিশীলতা ফেরানোর যেকোনো সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করা।
ইজরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইজরায়েলি সেনাদের ওপর হিজবুল্লাহর রাতভর হামলার জবাবে তারা এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, নাবাতিহ এলাকার কৌশলগত পাহাড়গুলো দখল করার জন্য ইজরায়েলি বাহিনী রাতভর অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে তারা সেটি প্রতিহত করেছে। যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল এই অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়।
হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ বলেন, “ইজরায়েলি হামলার জবাব দেওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার আমাদের রয়েছে। ইজরায়েল লেবাননের ভূখণ্ড দখল করে রাখলে যেকোনো যুদ্ধবিরতি অর্থহীন হয়ে পড়বে।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শত্রুতা অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের চেষ্টার মধ্যেই এ হামলার ঘটল। এই চুক্তি নিয়ে ইজরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ একে ইজরায়েলের জন্য খারাপ বলে অভিহিত করেছেন। জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ট্রাম্পের চুক্তি আমাদের মানতে বাধ্য করে না।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইজরায়েলের এই অভিযানের সমালোচনা করে বলেছেন, “লেবাননে অনেক মানুষ নিহত হয়েছে।”
কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুক্রবার বিকেলে ইজরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। এই চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টা আগে দক্ষিণ লেবাননে ৪ ইজরায়েলি সেনা নিহতের পর বেন গভির লিখেছিলেন, “পুরো লেবানন পুড়িয়ে দেওয়া উচিত।”
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, “এই মন্তব্য ইজরায়েল সরকারের অফিশিয়াল অবস্থানেরই প্রতিফলন, যা পুরো মানবজাতির জন্য হুমকি।”
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ আল জাজিরাকে বলেন, “ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের আলোচনা চালিয়ে যাওয়া নির্ভর করছে ইজরায়েল এই চুক্তির শর্তগুলো কতটা গুরুত্বের সাথে মানছে তার ওপর। দখলদারিত্বের অবসান এবং ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা ছাড়া লেবানন ও এই অঞ্চলে কোনো শান্তি বা স্থিতিশীলতা আসবে না।” সূত্র: মিডল ইস্ট আই
























