লিবিয়ায় ৩ বাংলাদেশিকে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১২, ২০২৫

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার ৩ লিবিয়া প্রবাসীকে সেখানকার একটি বাঙালি মাফিয়া চক্র অপহরণ করে নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তাদের স্বজনরা।

 

অপহরণকারীরা ভয়াবহ নির্যাতনের ভিডিও ও অডিও পাঠিয়ে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছে। এরই মধ্যে দুটি পরিবার মুক্তিপণের কিছু টাকা পাঠাতেও বাধ্য হয়েছে।

 

অপহৃত ৩ প্রবাসী হলেন: রায়কালী ইউনিয়নের গুডুম্বা গ্রামের গোলাম রব্বানী, পুন্ডুরিয়া দক্ষিণ মণ্ডলপাড়ার আবদুল করিম এবং সোনামুখী ইউনিয়নের রামশালা গ্রামের রুহুল আমিন।

 

প্রায় ১৫ দিন আগে গোলাম রব্বানী এবং ৬–৭ দিন আগে অপর দুজনকে অপহরণ করা হয়। রুহুল আমিন ও আবদুল করিম সম্পর্কে শ্যালক ও ভগ্নিপতি।

 

গোলাম রব্বানীর স্ত্রী মোছা. জুথি আক্তার বলেন, “আমার স্বামী ২০১৫ সালে লিবিয়ায় যান এবং ২০২৩ সালে দেশে এসে আবার সেখানে ফিরে যান। জিলথান শহরে রঙের কাজ দেখানোর কথা বলে স্থানীয় একটি বাঙালি চক্র তাকে অপহরণ করে।”

 

জুথি আক্তার আরও বলেন, “৩০ নভেম্বর রব্বানীর নিজের ফোন থেকেই অপহরণের কথা জানানো হয় এবং ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখার একটি হিসাব নম্বরে টাকা জমা দিতে বলা হয়। এরপরই নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হয়। পরে অপহরণকারীরা আবার ১৫ লাখ টাকা দাবি করছে।”

 

তিনি আরও বলেন, “টাকা না দিলে আমার স্বামীকে হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। স্বামীকে উদ্ধারে ৮ ডিসেম্বর প্রবাসীকল্যাণের ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছি।”

 

অপহৃত আবদুল করিমের স্ত্রী তাসলিমা বিবি বলেন, “আমার স্বামী ১৩ বছর লিবিয়ায় আছেন। দেশে প্রায় ৮ মাস থাকার পর ৭ মাস আগে পুনরায় লিবিয়া যান। ৬ ডিসেম্বর রঙের কাজ দেখানোর কথা বলে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে আটকে রেখে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা কিছু টাকা ওই ব্যাংক নম্বরে পাঠাতেও বাধ্য হয়েছে।”

 

রুহুল আমিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম বলেন, “ঘটনার দিন আমার স্বামী ফোন করে জানান, তিনি কাজ দেখতে যাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর একটি গাড়ির ছবি পাঠান। পরদিন তার ফোন থেকেই নির্যাতনের অডিও পাঠিয়ে ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। আমরা কষ্ট করে ১ লাখ টাকা পাঠিয়েছি।”

 

আক্কেলপুর থানার এসআই গণেশ চন্দ্র বলেন, “গোলাম রব্বানীর স্ত্রী নির্যাতনের ভিডিও ও মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”