লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা ইজরায়েলের

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : নভেম্বর ০৭, ২০২৫

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় ৪টি শহরে বৃহস্পতিবার ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। হামলায় একজন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছে। লেবাননের দাবি, এসব হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে ইজরায়েল।

 

ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা। তবে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধবিমানগুলো দেশটির টায়ার জেলার বেসামরিক এলাকায় আঘাত হেনেছে।

 

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বিবৃতিতে বলেন, “আজকের হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইজরায়েল আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দিচ্ছে। যুদ্ধবিরতির পরও ইজরায়েল কোনো রাজনৈতিক সমাধানে আগ্রহ দেখায়নি। নিয়মিত হামলার মাধ্যমে তা প্রমাণ করছে।”

 

হিজবুল্লাহ বিবৃতে জানিয়েছে, তারা এখনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে ইজরায়েলের হামলার মুখে তারা আর নীরব থাকবে না। যে শত্রু আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিচ্ছে, আত্মরক্ষার জন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া আমাদের বৈধ অধিকার।

 

ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বিবৃতিতে জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের আয়তা আল-জাবাল, তায়বেহ ও তায়ের দেব্বাতে তারা হামলা শুরু করেছে। এর কিছুক্ষণ পর দক্ষিণ লেবাননেরই জাওতার-আল-শারকিয়া শহরের এক জায়গার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় তারা। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে হামলা শুরু হয়।

 

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হলে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইজরায়েলে বিক্ষিপ্ত হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এই সংঘাত পূর্ণ মাত্রার ইজরায়েলি আগ্রাসনে রূপ নেয়। ফলে ৪ হাজারে বেশি লেবানিজ নিহত ও ১৭ হাজার লেবানিজ আহত হয়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২৪ সালের নভেম্বরে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, ইজরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে প্রায় প্রতিদিনই আক্রমণ চালিয়ে আসছে। যুদ্ধবিরতির পর ইজরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহর ৩৫০ জনের বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা