শিশুদের জন্য যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : জুন ১৫, ২০২৬

১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে গেমিং ও লাইভস্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আজ সোমবার বলেন, “শিশুরা যখন অনলাইনে থাকে, তখন তাদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার কাছে এটি স্পষ্ট যে, পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত। কাজটা সহজ হবে না। তবে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর (বিগ টেক) ক্ষমতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মতো সক্ষমতা সরকারের রয়েছে।”

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান বেশ শক্ত করেছে যুক্তরাজ্য। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই পদ্ধতি চালু করতে, অ্যালগরিদমে পরিবর্তন আনতে এবং মোবাইল ফোনে ধারণ করা নগ্ন ছবি যাতে শিশুরা ছড়াতে না পারে—সে বিষয়ে কড়া নির্দেশনা ও চাপ দেওয়া হয়েছে।

তবে শিশুরা অনলাইনে অতিরিক্ত সময় কাটালে যে ধরনের মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা ক্রমেই বাড়ছে। অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা এবং অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে স্টারমার আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছর অস্ট্রেলিয়াও ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছিল। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দলীয় নেতৃত্বে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন স্টারমার। এ পরিস্থিতিতে তিনি বলেন, “দেশের মানুষ এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে যথাযথ পদক্ষেপই আশা করে।”

১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে প্রথম দেশ অস্ট্রেলিয়া। গত বছরের ডিসেম্বরে দেশটি টিকটক, অ্যালফাবেটের ইউটিউব এবং মেটার ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে শিশুদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়।

এরপর থেকেই শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় বিশ্বের অনেক দেশই এখন এ এক্সেস বা প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবছে।

নতুন এ বিধিনিষেধের ব্যাপারে যুক্তরাজ্য সরকার শিক্ষক, অভিভাবক ও তরুণদের মতামত নিয়েছে। যার মধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা, নির্দিষ্ট সময়ের পর ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা (কারফিউ), অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া এবং আসক্তি তৈরি করে—সরকারের ভাষায় এমন ‘অ্যাডিক্টিভ ডিজাইন ফিচার’ বন্ধ করার মতো বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে।

এ জরিপে অভিভাবক, প্রযুক্তি খাত ও তরুণদের কাছ থেকে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি সাড়া পাওয়া গেছে। অংশ নেওয়া অভিভাবকদের মধ্যে ৮৩ শতাংশের বেশি মনে করে, সোশ্যাল মিডিয়ার উপকারের চেয়ে ঝুঁকি অনেক বেশি। আর ৯০ শতাংশ অভিভাবকই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর করার পক্ষে মত দিয়েছে।