সজীব দে

সজীব দে

সজীব দে’র কবিতা ‘সে আমাকে শৈশব দিতে চেয়েছিল’

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯

সহজ হতে চাই যতটা চাই তারচে বেশি
শান্ত বাতাসের মতো বয়ে যেতে

সন্তু হবার জন্য জন্ম হয়নি
মানুষ হতে চাই যতটা তারচে কম
তেমন কিছু একটা হবে।

পার্থিব আমি বাড়ি ছিলাম না
প্রেমের রন্ধনশালায় রান্না হচ্ছিলাম।
পার্থিব আমাকে না পেয়ে চলে গেল।
তারপর আর সে আসেনি।

পার্থিব আমাকে ভালবাসতো
সে জানতো, আমি প্রতিদিন রান্না হই।
কিন্তু পার্থিব আমাকে দেখিয়েছিল কোণারকের সূর্যমন্দির
আর বাঘের গুহা।
পার্থিব বলেছিল, আমাকে ভালোবাসলে সে আমাকে
দুটো পাখা দেবে হাতের দু’পাশে।

আর সূর্যস্নানে আমরা শরাব পান করে বালিয়াড়িতে গড়াগড়ি খাব।
সে আমাকে শৈশব দিতে চেয়েছিল
আর আমি নিলাম যৌবন!

যেদিন সে শেষবারের মতো এসেছিল আমার বাড়িতে
একটা শরাবের বোতল রেখে গিয়েছিল
আমার বইয়ের র‌্যাকে।

ওর মৃত্যুর দিনে আমি সূর্যস্নান করেছি।
আর বোতলটি নিয়ে বালিয়াড়িতে গড়াগড়ি করেছি।
আ রিয়েল টাইম এবং একজন দেবদূত
সময় পার করার মতো দাঁড়িয়ে থাকি।
বলতে পারো আসলে আমিই অপেক্ষা করি
আসন্ন একটি গান শুনতে মুনতে চারপাশের কোলাহল থেমে যায়
কানে আসে না আর কোনও শব্দ
অথচ রক্তে সুইফটের সাদা ঘোড়া দৌড়ে বেড়ায়।

আর দা ভেলভেট আন্ডারগ্রাউন্ডের হেরোইন শুনে
কিম্বা উইম ওয়েন্ডারের উইংস অব ডিজায়ার দেখে
আমিও ছাদের কার্নিশে বসে থাকি
কোনও দেবদূত আলতো ধাক্কায় ফেলে দেবে বলে।

তখন ভোর-সকালে কেউ নেই কোথাও
আমার মাথা ছিটে আছে নীলরক্ত শীতের হীমে।
ঠোঁটে করুণ পিঁপড়ে জড়ো হয়।
একজন নাবিক চলে যায় আমাকে রেখে
এক পিপে দেশি মদ নিয়ে।

আমিও আত্মহত্যা করতে পারি একটি গান শুনে।
হেরোইন
গিন্সবার্গের কান্না—
কোথাও লুকালে যে ছাপ রয়ে যায় তার দিকে প্যাসোলিনের ঘোড়াটা হেঁটে যায়...

আর যে মানুষটি এতকাল পালাবে পালাবে বলে
ঘূর্ণায়মান নীরবতায় একলা হতে থাকে
সেখানে এক অজগর বড় হতে থাকে।
যদিও এইসব চমৎকার ডিভাইন করোটিতে কুয়াশা জমে
এবং ছুটে যাওয়া নৈশট্রেনটি একটি লালঘরের পাশে সকল যাত্রি নামিয়ে দ্যায়
আর তাদের মনে হয়, তারা নিজেদের পূর্বজন্মের কাছে ফিরে গ্যাছে।
তথাপি অনিশ্চয়তায় তাদের চোখের পাতায় ইনফার্নোর দরজা খুলে যায়।
এমন যাত্রায় কে না নিজেদের মেলে ধরে?

তাদের কনফেশানে যে কথা তারা বলতে চায় তা হলো—
তারা সবসময় জাদুকর হতে চেয়েছিল। যেনবা জাদুকর হওয়া তাদের জীবনের অমোঘ পুঁথি।
যারা লিখে গিয়েছিল বাতাবি লেবুর ঘ্রাণে ঘুম না আসার কথা
তারা বরং ভাগাড়ে ঘুমিয়ে রাত পার করে সকালে প্রাতরাশে
মানুষের আঙুল দিয়ে চকোলেট বানিয়ে খায়।

দূর থেকে ভেসে আসা বিবর্ণ সঙ্গীত একরাশ এলোচুলে সূর্যকে আটকে দ্যায়।
কেননা জন্ম থেকে মানুষ জাদুকর হবার যে বাসনা নিয়ে বড় হতে থাকে
তা তাদের জীবনের অভিজ্ঞতার টানাপোড়নে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলে চালিয়ে দেয়
যেন তারা ভবিষৎ দেখে নিজেদের লালরঙের সোয়েটারের ভেতর
লুকানো তাদের সৎকার। যা অনেক আগে রচিত হয়ে আছে বলে তারা খুব বেশি চিন্তা না করে
অবশ এক প্রতিলিপি দিয়ে যায়, যেখানে মানুষ নিজেদের হারানো আত্মার উৎসে বিষণ্ণতার গান গেয়ে বেড়ায়।

তোর যেগুলি ভালো লাগবে, নিতে পারিস এখান থেকে