সাত মাসে দেশজুড়ে ২,০৭৬ জনকে হত্যা
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : আগস্ট ২৯, ২০২৬
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৭ মাসে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ২,০৭৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কারামুক্ত একাধিক প্রভাবশালী অপরাধী এবং বিদেশ থেকে ফিরে আসা কিছু ব্যক্তির তৎপরতা অপরাধ জগতের দ্বন্দ্বকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
এসব চক্রের অনুসারীরা নিজেদের প্রভাব বলয় বজায় রাখতে গিয়ে বারবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। বছরের শুরু থেকে রাজনৈতিক বিন্যাসের পটভূমিতে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয় ৭৫ জন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম পুনর্সংগঠিত করা হচ্ছে। সহিংসতা প্রতিরোধ, দ্রুত মামলা দায়ের এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে দেশব্যাপী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
কয়েক মাসের তথ্য পর্যালোচনা করলে কয়েকটি আলোচিত ঘটনার চিত্র উঠে আসে:
৫ জানুয়ারি: চট্টগ্রামের রাউজানে নিজ বাড়ির সামনে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকে (৫১) লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করা হলে তিনি নিহত হন।
২৮ এপ্রিল: রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যার শিকার হন।
৭ মে: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পোশাককর্মী বর্ষা আক্তারের (২০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
৮ মে: খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে মাহিনুর আক্তার (২৪) এবং চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদে হাসান রাজু গুলিতে নিহত হন। উক্ত ঘটনায় ১১ বছরের শিশু রেশমি আহত হয়।
৯ মে: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় আন্দালিব সাদমান রাফি নামের এক শিশুকে অপহৃত করার পর হত্যা করা হয়। একই দিনে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় শারমিন আক্তার, তার তিন সন্তান এবং রসুল মিয়া নামের মোট পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
১৩ জুন: চট্টগ্রামের রাউজানের একটি বাজারে মাসুদুল হক চৌধুরীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তিনি প্রাণ হারান।
৬ আগস্ট: রাজধানীর সবুজবাগের বাগানবাড়ী কালভার্ট এলাকা থেকে ছুরাইয়া আক্তারের (২১) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
২০ আগস্ট: খুলনার বটিয়াঘাটায় এক নারীর মরদেহ এবং ২২ আগস্ট রংপুরের কামালকাছনা এলাকা থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যানে জানা গেছে, জানুয়ারি মাসে ২৮৭, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০, মার্চে ৩১৭, এপ্রিলে ২৮৮, মে মাসে ৩১০, জুনে ৩২৬ এবং জুলাই মাসে ২৯৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
২০২৬ সালের জুলাইয়ের ২৯৮টি মৃত্যুর মধ্যে গণপিটুনিতে ২১ জন এবং রাজনৈতিক সহিংসতায় ১১ জন প্রাণ হারায়। প্রতিটি ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।
তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের (২০২৫) জুন ও জুলাই মাসে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩৪৪ ও ৩৬২টি। রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও দক্ষিণের খুলনাসহ কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় অপরাধের আধিক্য কিছুটা বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে রাতের টহল বৃদ্ধি করা ও আসামি গ্রেফতারে অভিযান জোরদার করায় পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সহিংসতায় লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়াকে অন্যতম প্রধান ঝুঁকি হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা। থানা ও ব্যারাক থেকে খোয়া যাওয়া ১,৩১১টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনও উদ্ধার করা যায়নি।
এসব অস্ত্রের মধ্যে এসএমজি, চীনা রাইফেল ও পিস্তল রয়েছে। খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধার ও অবৈধ অস্ত্রের জোগান বন্ধে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ ও র্যাব। তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে পুরষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হলেও পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অস্ত্র উদ্ধার অভিযানকেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।























