হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শুনানি শুরু

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : জানুয়ারি ২১, ২০২৬

অর্ন্তবর্তী সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক আব্দুস সালামের আদালতে এ শুনানি শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন।  এরপর এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা ৩০ আসামির মধ্যে ২০ জনের মামলা থেকে অব্যাহতির শুনানি করেন তাদের আইনজীবীরা। ৯ ফেব্রুয়ারি অপর আসামিদের অব্যাহতির বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রেখেছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রুহুল আমিন বলেন, “এ মামলায় ৩০ আসামি কারাগারে আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জনের পক্ষে অব্যাহতির চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি অপর ১০ আসামির অব্যাহতির শুনানি হবে।  এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হবে, এমনটা আশা করছি।”

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলাটি করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্ত শেষে ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে সংস্থাটি।  ১৪ অগাস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

 ১১ নভেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিং হয়। এতে শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেয়।

 এ সময় শেখ হাসিনা তাদের উদ্দেশে দেশবিরোধী বক্তব্য দেন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন।  এ বক্তব্য সারা দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ৩০ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।  শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জন দেশের বাইরে রয়েছেন।

কারাগারে থাকা অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন: খুলনার যুবলীগ নেতা পারভেজ খান ইমন, চট্টগ্রাম জয় বাংলা ব্রিগেডের প্রধান কবিরুল ইসলাম আকাশ, জয় বাংলা ব্রিগেড বরিশাল বিভাগের অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সোহানা পারভীন রুনা, হাফিজুর রহমান ইকবাল, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মধু, একেএম আক্তারুজ্জামান, আল মারুফ, এলাহী নেওয়াজ মাছুম ও সাজ্জাদুল আনাম।