করোনা আপডেট
আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ
বিশ্বব্যাপী
সজীব দে

সজীব দে

সজীব দে’র ৫ কবিতা

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ০৪, ২০২২

পাখিরা আকাশ ভুলে গেলে অন্ধ হয়ে যায়

আজ মায়া থাক। বিচলিত পাখি। শূন্য চায়ের কাপ। বিপন্ন দেয়াল।
সব রেখে চুপ বই ওড়াই।
আর
আমার ছিন্ন মস্তক বইয়ের তাকে সাজানো থাকে।
এবং
শরাবের পেয়ালায়
তাবরেজির আঙুল শোভিত।
এইসব কিছু নয়। সবই ঘটে যাচ্ছে অনিমেষে।
ভাষা তোমার মুখাবয়ব।
সে জানে, পাখিরা আকাশ ভুলে গেলে অন্ধ হয়ে যায়।

তোমার নগ্ন পায়ে

অরণ্যের কাছে এসেও ভুলে যাই প্রিয় গাছ
ফুল পাতা সমুদ্রে হাওয়া পাহাড়ের ডাক। কোথাও লুকিয়েছে মন।
পশ্চিমে মেঘ হারানো বিকেল
হাওয়া গাড়ি, মানুষের দল
সব রূপকথা।
আমার মৃত্যু একদিন ঠাকুমার রূপকথায়
ঘুমিয়ে গেছে শীতের রাতগুলিতে।
বেঁচে থাকার আহ্বান নিয়ে মেটাল রক সাইকেডেলিক
প্যারাডক্স নিয়ে বসে আছ অনেক বইয়ের পাতায় পাতায়।
সিনেমা দেখে জীবন বুঝে নিই।
তোমার নগ্ন পায়ে যে রোদ পড়ে খুব সকালে
আমি ছবি আকি করোটিতে।
তুমি জানো এমন রূপ দেখে মরে গেলে
আমার দেখা হবে আবার তোমার সাথে।

কারও স্বপ্ন শোনার পর মৃত্যর উৎসব রচিত হয়

স্বপ্ন গেছে বন মাঝে। এখন রাত ৯টা ৪১।
এভাবেও চলতে পারে যা কিছু নিয়ম
তারও মাঝে অনিয়মকে বেঁধেছি।
৪২ বেজে গেছে অন দা রোড বা নীল কাসাডি ঘুমিয়ে পড়ে।
আহা, কত রোদ পোহানোর দুপুর পেরিয়ে আজ প্রায় চল্লিশে ১৫ কিংবা ২৫ শের দুপুরগুলি পার করছি।
তবু
মায়ামীর কাছে অনুরক্ত হতে গিয়ে বুঝি, সেসব কিছুই আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।

তখন পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রগুলি মাথায় ঘোর খেলতো আর তখনি সুচেতনা বা বনলতা গ্রাস করে মধ্য বিকেল।
আমি একা এবং যে কয়েকজন মানুষ জীবনকে কল্পনা করতে শিখিয়েছিল সেসব মানুষেরা আজ বুড়িয়ে গেছে।

সৌন্দর্যখেকো মন


চৈত্রের বিকেলে আমার প্রিয় কেউ শাড়ি পরে খাটে বসে থাকে
আমি মুখ বরাবর দেখে চোখ যে লুকিয়েছিলাম
সেসব মনে পড়ে। আহা।
জানো েতো সন্ধ্যা কেবলি রক্তাক্ত বিবমিষা
কিংবা হারুকির মেয়ে ওয়েটারের মতো নরম
দুধেল স্তন পল সেজান একেঁছিল।
পরে এসব শতকীয় শৈশব আমার
রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিষ প্রয়োগ করেছিল
যা আমি জানতে পারি কোনো এক সকালে ঘুম থেকে উঠে।
আর আমি মারা যাই।

বৈরাগ্য

আমার কী হইছে
এখনও একই বৈরাগ্য
সাধনা তো নাই
নাই সহজিয়া
তবে কী হইছে?
জারুল মরেছে
সেই কবে।
চুল-দাঁড়ি সেই থেকে মৌমাছিদের বাসাবাড়ি।
আমার তো স্থির বলয়ে ঘুমমাখা শীতে
লেপের নিচে মাথা মুড়ে থাকার কথা;
এ শীত সহবাসে।
তবে, কী হইলো?
রাহুল আর জোছনা রাতে
বের হতেও বলে না,
স্বভাব ইহকালে যা করেছি করতল
সংস্কারবাদী কমিউনিস্টদের মতো
ভাবি আমার নাই কোনো গর্জন
আমি তো ঘূর্ণায়মান
ঘুরছি আর ঘুরছি
তাবৎ লজ্জা মোড়কে ডেকে রেখেছি
আলাদিন যদি বলে চিচিং ফাঁক
তবে আশাহত আলাদিনের স্বপ্নও
নিরূপায়ে গজ দাঁত বের করে হাসবে...