অনশন ভাঙতে ৩ শর্ত দিলেন সোনম ওয়াংচুক

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : জুলাই ২০, ২০২৬

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিতসহ ৩টি শর্ত পূরণ করা হলে অনশন ভাঙবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ২০ দিনের বেশি সময় ধরে অনশনে থাকা ওয়াংচুক দিল্লির সাফদারজং হাসপাতালে থেকে হাতে লেখা চিঠিতে এ ঘোষণা দেন।

চিঠিতে সোনম ওয়াংচুক লেখেন, “অবৈধভাবে আমাকে আটকে রাখা হয়েছে। আমার চলাফেরা, মতপ্রকাশ ও যোগাযোগের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ব্যর্থতার দায় সরকারকে স্বীকার করতে হবে।”

তিনি আরও লেখেন, “রাজনৈতিক নেতাদের সংসদে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি উত্থাপনের নিশ্চয়তা দিতে হবে। যদি শারীরিক অবস্থার কারণে আমি আজকের সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নিতে না পারি, তাহলে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের হাসপাতালে এসে আগের দুটি শর্ত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিতে হবে।”

সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ব্যবস্থা ও লাদাখ সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করে আসছেন। ২৮ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে যোগ দিয়ে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন এবং সেদিন থেকেই তিনি অনশন শুরু করেন।

১৮ জুলাই অনশনের ২১তম দিনে দিল্লি পুলিশ তাকে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে সাফদারজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। এর একদিন আগে চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থাকে জরুরি বলে উল্লেখ করেন এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানান।

একই সময়ে দিল্লি হাইকোর্ট সরকারকে তার জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেন।

তবে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন কোনো আদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ওয়াংচুক নিজে হাসপাতালে ভর্তি না হওয়ায় এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে সরকার তাকে সাফদারজং হাসপাতালে স্থানান্তর করার অধিকার রাখে।

বিচারপতি মিনি পুষ্কর্ণা বলেন, “চিকিৎসকেরা তার অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তার সম্মতিতেই ওষুধ দেওয়া হয়েছে। তাই জোরপ্রয়োগ করা হয়েছে বা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা লঙ্ঘন করা হয়েছে, এমনটি বলা যায় না।”

ওয়াংচুকের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিবেক টাংখা বলেন, “হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে দ্বৈত বেঞ্চে আপিল করে জরুরি শুনানির আবেদন করা হতে পারে।”