অভ্রের তিনটে প্রেমের কবিতা
প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮
একলা রাত
চাঁদের আলোয় জেগে আছে রাত, একান্তে আনমনে;
নিভু নিভু নিকোটিনের উষ্ণ ছাই জমে ভাসমান স্মৃতির ললাটে।
এক চিলতে আলতো ছোঁয়ার খোঁজে শ্রান্ত যাযাবর এক যাত্রী,
ক্লান্ত চোখে স্তব্ধতার জাল বুনে চলে শত-সহস্র, বেহিসেবী।
রাতের ওপর জমে রাত, শুনশান গলির ফাঁকে শুধু অনুভূতির স্তূপ,
ছন্নছাড়া শহর আজ তারা গোনে, বিস্মৃত শত রজনীর ঘুম।
চুম্বনে সিক্ত রাতের আড়ালে গিয়েছে মিলিয়ে সময়ের ঘেরাটোপ,
জ্বলন্ত লেলিহান মোমের বাধ্যবাধকতায় যাচ্ছে গলে নির্বোধ অসাড় বরফ।
বিভোর দুটো চোখ অবিরত খুঁজে চলে স্নিগ্ধতার অন্তিম বিন্দু,
কল্পনার গল্পকথায় তুষ্ট হৃদয় নীলচে আকাশে ছোটে ধূমকেতুর পিছু পিছু।
আর্দ্র চোখের ক্লান্ত মায়ায় বয়েছে গভীর কিছু দীর্ঘশ্বাস,
ভালো লাগার কৃত্রিম পরিহাসে ভালোবাসা স্রেফ পরিস্থিতির শিকার।
ঝরে প্রগাঢ় কিছু উন্মাদনা কলমের নীলচে নোনাজলে,
সাদা-কালোরা হাতছানি দেয় জ্যোৎস্নাসিক্ত অভিমানে।
অষ্টাদশী তোমাকে
কত অজ্ঞাত কথা লুকিয়ে রেখেছি, জানাতে পারিনি কখনও...
আমার মনের ঘরের জানলায় মেঘ-রোদ্দুরের খেলা অভিমানী এখনও।
সৃষ্টির জারজ বৃষ্টির অকালবোধনের শীতলতা আসে নেমে আচমকাই,
নেশাতুর একলা এই প্রাণ তোমার সিক্ত অভ্যন্তরে খুঁজে চলে শিশিরের রোশনাই।
অষ্টাদশী তুমি ছাড়া নাম না জানা মন-কেমনেরা সুখতারা খোঁজে আর্দ্র রাতে,
অষ্টাদশী কেবল তুমি দূরত্বটা বাড়িয়ো না আর অভিমানের ব্যারিকেড দিয়ে।
এক টুকরো বিকেলের গায়ে লেপটে থাকা সূর্যালোক তোমার মলাটে মুড়িয়ে দিলাম,
অষ্টাদশী তুমি সামলে রেখো এই উষ্ণ-আর্দ্র বিকেলগুলোর ইতিহাস।
এভাবেই সহস্র যোজন হাঁটতে হাঁটতে কখনও এসেছো হয়তো মনের সন্নিকটে,
তোমার ছোট্ট টিপের স্নিগ্ধতায় দিনের সূচনাকালে অন্তর তপ্ত কাজলের আঁচে।
অষ্টাদশী তুমি কি জানো, তোমায় ছাড়া প্রেম আজও সবুজবিহীন উদ্ভিদ!
তোমায় ছাড়া বিহ্বলতার অমোঘ অস্ত্র নিষ্প্রাণ আর তেজহীন।
অষ্টাদশী তোমাকে মাখাতে চাই অকাল বসন্তের পলাশের ফাগ,
সমস্ত হাসি-কান্না একাকার হয়ে আমার তুমিতে তাই হোক তার অবসান।
প্রণয়-সামিয়ানা
এখানে এই জনশূন্যতায় বসা যায় খানিকক্ষণ,
সূর্যটা পানবিলাসী ডোমের মতো ঝিমোচ্ছে এখন।
তবে এখন যখন এসেই পড়েছো তুমি,
তাহলে বুকের ওপর দ্বিধার পাথর নিয়ে লাভ কী?
একাকিত্ব শেষ করে এসো বসি নদীর তীরে,
যেন কিছু কথা, কিছু নীরবতা আমাদের থাকে ঘিরে।
ভয় নেই গো তোমার, ভোগ করার লোভে আসিনি,
যদি আলগোছে ছুঁই তোমার হাত বা চুম্বন করি অল্প একটুখানি...
তাহলে কি তোমার ভাষায় এসব নিতান্তই ভোগ!
নাকি দূরে সরিয়ে দেবে আমাকে তোমার কাজলমাখা চোখ?
কতটা হাত বাড়িয়ে দিলে তোমার মন ধরা যায়!
কতটা পথ পাড়ি দিলে তোমার মন পাওয়া যায়!
তুমি যদি ভালোবাসো, তবে কবিতার আড়ালে থাকবে না খরা...
যদি বিশ্বাস রাখো, তবে প্রেমের আঙিনায় কেবলই সুখের সামিয়ানা।























