অমিতাভ পাল

অমিতাভ পাল

অমিতাভ পালের পাঁচটি কবিতা

প্রকাশিত : মার্চ ০৩, ২০২০

কালবৈশাখী

আজ ভ্রুণহত্যা দিবস
লাখ লাখ আমের বউল মরে পড়ে আছে রাস্তায়
শোকজর্জর আড়ষ্ঠ আমগাছগুলি কাঁদছে
এইমাত্র আমার পায়ের নিচেও চটকে গেল একদল ভ্রুণ
স্যান্ডেল ময়লা হওয়ায় আমি বিরক্ত হলাম

আজ ভ্রুণহত্যা দিবস
আলোর মুখ আর দেখতে পাবে না লক্ষ লক্ষ আম

ওবেসিটি অ্যান্ড বিয়ন্ড

আমাদের পকেটগুলির কখনো হৃদযন্ত্রের সমস্যা হয় না
ডায়াবেটিস নাই
নিয়মিত প্রেসার মাপার ধকলও ওদের সইতে হয় না
সব যায় আমাদের ওপর দিয়ে
আমরা সকালে লেবুর জল খাই
দুপুরে শাকসব্জি আর ফলমূল
রাতে না খেতে পারলেই বাঁচি—
ওজন যে দিনদিন বাড়ছে

অথচ পকেটগুলিকে দেখুন—
মাসের প্রথমে ওদের ওজন আমাদের চেয়েও বেশি থাকে
তারপর থেকে ওজন কমতে কমতে
মাসের শেষে ওরা একেবারে স্লিম হয়ে যায়
অথচ কোনও নিদানই ওরা নেয় না—
কী চমৎকার!
আবার আগামী মাসে ওরা মোটা হবার জন্য তৈরিও থাকে

আহা! আমি যদি আমার পকেট হতে পারতাম

বিমানবন্দর

মাঠের মধ্যে কয়েকটা পাখির মতো বসে আছে কয়েকটা প্লেন
ওরা পেটভরা পোকা নিয়ে উড়াল দেবে
দূরে কোথাও কোনও বাসার হ্যাঙ্গারে
রাত কাটাবে
তারপর আবার উড়বে
মাঠে নামবে
আর মাঠগুলি তাদের দেবে কীটপতঙ্গের খাবার

মাঠের মধ্যে কয়েকটা পাখির মতো বসে আছে কয়েকটা প্লেন
মাঠগুলি তাদের যত্নআত্তি করছে

জেনাস

বড় রাস্তা দিয়ে রিকশায় চড়ে যাচ্ছিলাম
রিকশাঅলা মাথানিচু করে রিকশা চালাচ্ছিল
আর আমি সিগারেট টানতে টানতে
করছিলাম আয়েশি ভ্রমণ
হঠাৎ রাস্তার পাশের একটা গলি থেকে
বেরিয়ে এলো একটা মেয়ে
সাথেসাথে আয়েশিভাব কাটিয়ে তীক্ষ্ণ হয়ে উঠলো
আমার চোখ
রিকশাঅলাকেও দেখলাম নিচুমাথা উঁচু করে
মেয়েটাকে দেখছে সমস্ত আগ্রহ নিয়ে
আর আমাদের এই বুভুক্ষু দেখার মধ্যেই রিকশাটা
একটা গর্তে হোঁচট খেলো
এবং আমরা দুজনেই নড়ে উঠে বর্তমানে ফিরলাম

বাবু আর রিকশাঅলা— আমরা এখন সমলিঙ্গের
সমশ্রেণির

উৎসব

ক্যাম্পফায়ারের ধারে বসে আছি বুড়া সিংহের মতো
আর তরুণ ও মাদি সিংহীরা
চারপাশ থেকে ঘিরে ধরেছে একটা মোষকে
দাঁত আর নখের মিশেলে
এখন মোষটার শ্বাসনালি ছিঁড়ে ফেলবে ওরা
গরম রক্ত ছড়িয়ে পড়বে চারপাশে
আর শুরু হবে আমাদের ভোজনপর্ব
আমি ওটার কালচে কলিজাটা চিবিয়ে খাব

পিছনের আকাশে ফাটছে আতশবাজি