অমিতাভ পাল

অমিতাভ পাল

অমিতাভ পালের ৫ কবিতা

প্রকাশিত : জানুয়ারি ৩০, ২০২০

সাফারি

স্টপেজে বাসের পাশে হাঁটছে কন্ডাক্টর
আর মাঝেমাঝে চাপড় দিচ্ছে বাসের শরীরে
হাতির পাশে হাঁটতে থাকা মাহুতের মতো
বাসের পেটে হাতির খাবারের মতো আমরা হজম হচ্ছি
আমাদের শক্তিতে বাস চলছে

ফুটপাথে দাঁড়িয়ে নাগরিক হাতি দেখছে
শহরের লোকজন

একবিংশ শতাব্দী

এটা কোন জায়গা?
চেনা কিছুই চোখে পড়ছে না
নিয়ম না মানা লাভার মতো সবকিছু ছুটছে দিকবিদিক
মানুষজন সব মৃতের মতো আত্মকেন্দ্রিক
অসহ্য নীরবতায় কেবল কুকুরেরা চ্যাঁচাচ্ছে

এটা কোন জায়গা?
আমি হঠাৎ নেমে পড়েছি একটা অন্যগ্রহের
স্পেসশিপের মতো
এখন মহাশূন্যের স্থানাঙ্কহীনতায় কোনও দিশাই খুঁজে পাচ্ছি না—
আমি একটা সবুজ শ্যাওলামাখা পাথরের দেশে থাকতাম
একটা পোকার মতো
আমাদের বসতিগুলির নাম ছিল গ্রাম
আমি আবার সেখানে ফিরতে চাই
এই অসহ্য অচেনা আমার দম বন্ধ করে দিচ্ছে
কোন বাসটা আমাকে নিয়ে যেতে পারে বলতো

এটা কোন জায়গা?
কি? তুমিও চেনো না?

স্বার্থপর দৈত্য

আমার বাগানটা নষ্ট হয়ে গেছে অনিচ্ছায় অযত্নে আর অনাগ্রহে
অথচ বাগানটা ছিল ফুলে ফলে ভরা
পাখি আর শিশুরা নিয়মিত বেড়াতে আসতো এখানে
আর আমরা সবাই মিলে আনন্দ ফূর্তি করতাম

ইদানীং বাগানের জায়গাটার মাটি শক্ত হয়ে গেছে
দেখলে মনে হয় কংক্রিটের উঠান
তার শক্ত চোয়ালের ভয়ে কোনও গাছ আর জন্মানোর সাহস পায় না
শিশুদের নরম পা ফেটে যায়
আর একইরকম দেখতে একদল কাক সারাক্ষণ চিৎকার চ্যাঁচামেচি করে

আমার বাগানটা এখন খুব রাগী
তার খুব প্রতিশোধ নিতে ইচ্ছা করে
রক্তের গন্ধ তার প্রিয়

আজকাল আমি মরা বাগানটার সামনে
সাইনবোর্ডের মতো কিছু টবের চারাগাছ সাজিয়ে রাখছি
যেন লোকে বুঝতে পারে আমি সবুজের ভক্ত

গোপন কথাগুলি আমি কাউকে বলি না

ডেঅফ

ডেঅফের দিন আমি বাজার করি
ঘুম থেকে ঊঠি ঘুমের সর্বোচ্চ সীমানা পেরিয়ে
দ্রুত চলতে চাওয়া হাতপাগুলিকে
ধীরে চলার পরামর্শ দেই
বউয়ের সাথে সেক্স করি
সময়কে শেখাই এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প পথ ধরতে
বারে যাই
হাসি
রসিকতা করি

ডেঅফের দিন আমি হাজারটা কাজ করি
বাকি ছয়দিনের দাসত্বের জীবনে
আমার এতে কাজই থাকে না

মুক্তির অনেক দায়

ওয়ার স্পোর্টস লিগ

আমাদের পুরানো ও প্রাচীন যুদ্ধক্ষেত্রগুলি
ভেঙে টুকুরা টুকরা হয়ে গেছে
সেইসব মাঠ— যেখানে তলোয়ার হাতে বীরেরা
ঝাপিয়ে পড়তো পরস্পরের ওপর
আর্তনাদ করতো আহত পশুর দল—
তারা এখন চিনামাটির প্লেটের ভাঙা টুকরার মতো
পৃথিবীর মেঝেতে ছড়িয়ে পড়েছে
যেখানে সেখানে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়
আর একটু ভালো করে তাকালেই চোখে পড়ে
তাদের শরীরে যুদ্ধের দাগ রক্ত বিষণ্ণতা আর উৎসবের চিহ্ন

আসলে আমাদের পুরানো ও প্রাচীন যুদ্ধক্ষেত্রগুলির
ভাঙা সব টুকরা এখন আমরাই ঘরে সাজিয়ে রাখছি
প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মতো
আর সেইসব নিদর্শনের পেট থেকে বেরিয়ে আসা যুদ্ধের প্রেত
আমাদের দিয়েও লড়াই করিয়ে নিচ্ছে
আমরা এখন সবার সাথে যুদ্ধ করছি
আমাদের সবার হাতে তলোয়ার
আমাদের সবার মুখে রণহুংকার
আমরা সবাই রক্তাক্ত ক্লান্ত
আর যুদ্ধক্ষেত্রের টুকরাগুলি আমাদের দেখছে
আলমারি টেবিল আর তাকের গ্যালারি থেকে
তারা হাসছে আমোদ করছে
স্টেডিয়ামে ওয়ার স্পোর্টস দেখতে দেখতে

ওয়ার স্পোর্টস লিগের টিকিট আজকাল সবচেয়ে দামি