অরিজিত কুণ্ডুর তিনটি কবিতা
প্রকাশিত : জুলাই ০৮, ২০১৮
১.যৌনতা অথবা মৃত্যু বিষয়ক
অবগাহন
তোমার শরীরে
যেন ইতিহাসের ভার ।
আমি
দুচারটে পর্বত মালভূমি
কয়েকটা সমতল পেড়িয়ে
তোমার ঠোঁটের আর্দ্রতার কাছাকাছি
আর তোমার মগ্ন বোজা চোখ
অথবা জোনাকিতে ঝিলমিল চুলে
অমোঘ মৃত্যুর গন্ধ বারবার ।
ডান বুকের বৃন্তের পাশে
যে গাছ এঁকেছিলাম
এই বসন্তে সেই গাছের মৃত্যু হল নাকি?
তোমায় ছোঁয়া আর আরও বেশী ছোঁয়া ,
মনে পরে যায়
আগামী সাতমাস
একা থেকে একা হতে হতে
আমার শরীরে মৃত ডালপালা গজাবে
আর চড়ুইভাতি করবে শকুনেরা ।
তোমার শরীরে এত মৃত্যুর সংকেত যে
আর ভয়ও করে না ।
নাভি থেকে স্তন ছোঁয়ার আনন্দে
ভুলে যাই
দেওয়াল থেকে ঝোলা
রাই আর মহিমের শব ।
চরম আদরের ফাঁকে
বুকের বাঁ দিক কেটে
তোমার কাঁচা হৃৎপিণ্ড আস্ত খেয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখি
যদি কিছুদিন আরও বেশি বাঁচি ।
২.স্বগতোক্তি
জুলাই মাসের আলো নিভে যাওয়া রাতে
বৃষ্টির টুপুর টাপুর শব্দে
লালচে নীল চাঁদহীন আকাশ
আর জ্বলন্ত সিগারেটের ঘ্রাণে
দুচোখে ভীষণ ভয়ের প্রতিচ্ছবি দেখেছো ?
মৃত্যুর ভয় , বেদনার ভয়, বিষাদের ভয়
অথবা একাকীত্ব , প্রেমহীন নির্জনতার ভয়
পেয়ে দেখেছো কিনা একবার বলো ।
তুমি বলেছিলে
" তোমার জন্য সমস্ত খ্যাতির মোহ আর ঐশ্বর্য
ত্যাগ করতে পারি । "
শুনে সে ছিল নীরব ।
তুমি তো জানতেনা তার লালসার কথা
অথবা অবাস্তব চেতনায় ভরা আস্ফালনের শহরে
কাঁচের মাঝে তার অবাস্তব প্রতিবিম্ব দেখার স্বপ্ন ।
তুমি যে মেঘময় বিষাদ , বোদলেয়ার আর
বৃষ্টি অথবা দেওয়ালের ফাটল দিয়ে গড়িয়ে যাওয়া
আলোর প্রেমিক ছিলে ।
তুমি যে নির্জনতা , নিস্তব্ধতা চেয়েছিলে ।
আজ দেখো
তুমি নির্জন দ্বীপে সাধনা করছো
আর তোমার চারপাশে ঢেউয়ের শব্দে সেতারের মূর্ছনা
অথছ তোমায় বাঁচাতে
ওরা কোন জাহাজ , এমনকি নৌকাও পাঠাবে না ।
৩.রাজনৈতিক কবিতার বিপরীতে
“ কৃতবিদ্বেষ, মানবজাতির কী হবে বলো তো?
ধংসোন্মুখ এ – স্নেহনিলয় , জলে – ভাসা শব ,
জলের আগাছা আগুনে পুড়ছে , ক্ষত
দ্বিগুণ বেড়েছে । রয়েছ নীরব ? “
- - উৎপল কুমার বসু
দূরপাল্লার ট্রেনের জেনারেল কামড়ায় রোকেয়া
স্বপ্ন দেখলো
গ্রামে তার খোকন কাঁদছে ।
এক ঝটকায় ঘুম ভেঙ্গে দেখে
পনেরো ষোলো বছর বয়সী মেহেনাজের কোলে
এক দুধের শিশুর বিচ্ছিরি কান্না ,
লজ্জায় মেহেনাজ ব্লাউজ খুলে দুধ খাওয়াতে ভীত
আর উপরের বাঙ্কারে নাক ডাকিয়ে ঘুমোচ্ছে
মেহেনাজের কালো ভুঁড়িওয়ালা দ্বিগুণ বয়সী স্বামী ।
সারাদিন হাওড়া স্টেশনে কুলিগিরি করার পর
বদ্রীনাথ ব্রিজের নীচে বসে বিড়ি খেতে খেতে ফ্যালফ্যাল অবুঝ চোখে
বড়বাজারের গতিবিধি দেখে আর বিহারে ফেলে আসা গ্রামে
তার মা, মৃত বাবা, স্ত্রী আর ফুটফুটে মেয়ের সযত্নে রক্ষিত স্মৃতির
জাবর কাটে।
শিউলির শিয়ালদহের কাছে এক নোংরা খালের ধারে বসবাস ।
সাইকেলে করে কিশোরী চারপাশ ঘোরে গাছ দেখবে বলে ।
কিন্তু শুধু গাছ, আগাছা , বন্ধ্যা ডুমুর আর
কখনও সখনও জংলী ফুল ।
আপশোস শিউলির যে সে কখনও শিউলি, পলাশ, কৃষ্ণচূড়া, শিমুল, পাতাবাহার দেখেনি।
এসব দেখি আমি ।
আমি শহরের ‘সমাজতান্ত্রিক’ বিপ্লবীদেরও দেখি ,
এক দলের সাথে আর এক দলের বিরোধীতা নৈকট্য গসিপ দেখি যা হয়
সুরক্ষিত কলেজ স্ট্রীটের এক কেবিনে বা যাদবপুর ইউনিভারসিটির লিবারাল বেড়ার মধ্যে আর তাদের তত্ত্ব চিবোনো, নিস্ফল মিটিং মিছিল, স্লোগান দেখি শুনি।
অবশ্য একশো শতাংশের এক শতাংশ কাজ তারা করে না এমনটাও নয় ।
তাদের ফেসবুক বিপ্লবের মৃত এলিট বিপ্লবচর্চা দেখি হামেশাই,
তাই ধুয়ে ফেলেছি মস্তিষ্কের কোটরে কুক্ষিগত সমস্ত সাম্যবাদের আশা
আর রুমির কথা মেনে
অল্পবয়সের পৃথিবী পালটানোর আশা ছেড়ে
আজ নিজের আত্মার পরিশুদ্ধিতে প্রস্তুত হয়েছি ।























