অলাত এহ্সানের একগুচ্ছ কবিতা

প্রকাশিত : জুলাই ৩০, ২০১৮

নস্টাল‌জিক

সেই তো এলে, খু‌লে ফে‌লেছো
হা‌ত থে‌কে নিক্কন চু‌ড়ি, পা‌য়ের নূপুর
সেদিন বাইরে খুব বৃ‌ষ্টি ছিল
ভেত‌রে কাঠফাটা রোদ্দুর।

বৃ‌ষ্টি যখন থাম‌লো— মায়া সন্ধ্যা
গা‌ছের পাতারা স্নান করা নারীর ম‌তো চুল ঝা‌ড়ে,
মেঘ-বৃ‌ষ্টি-ঝড় কীভাবে গে‌লে, সে এক গোলক ধাঁধা
টুপটাপ জল ঝরল বেদনার ম‌তো, যত পা‌রে।

ওহ্, তু‌মি তো আসোনি, আস‌বেও না— সে-ই ঠিক
এ আমার অ‌লীক কল্পনা, বড্ড নস্টাল‌জিক।

জলের ধর্ম

নেমে আসো, কত উপরে গিয়েছিলে
তার হৃদয়ের চৌহদ্দি বারান্দায়
নেমে এসো ধাপে ধাপে সিঁড়ির পিচ্ছিলে
ডুবে যাও পুকুরের মতো জলের কান্নায়।
সাজানো আঙিনার প্রাচীর ঘেরা প্রশাসন
স্মৃতির প্রাসাদে শ্বাস ফেলে শাসক
বিছানো ইটের সবটা জুড়ে শ্যাওলার আস্তরণ
পেরিয়ে যাও রাস্তার মতো দীর্ঘায়িত শোক।

কিছুই আনা হয়নি, তবু ফেরানোর দায় বলে
পার করে দাও নিকটতম সুদূরের সেতু,
নিরুদ্দেশ যাত্রার হুইসেল বাজে রেলে
নিরন্তর ছুটে চলার সমান্তরাল হেতু।

খুব প্রকাশেই খুলে‌ গে‌ছে হৃদয়ের অন্তঃসার
শুধুই জলের রং বদল, শুধু তরল অঙ্গিকার।

ভাল্লাগে না এই শহরে

ভাল্লাগে না এই শহরে
পাঁচটি টাকা দান করে দেই।

দূরের মসজিদের আজান শুনি না
শব্দের চাপে কাতারে দাঁড়াই,
মাসে মাসে ধকল করে বাড়ি আসা
মোবাইলে মাকে টাকায় পাঠাই,

এই শহরে ছায়া তো নেই, কায়াও নেই এই শহরে
কোথায় দাঁড়াই, কার দিকে চাই
আমার যে ফাঁপর লাগে, বুকের ভেতর
গ্যাস্টিকের মতো জ্বলেপোড়ে, চাপ ধরে যায়
ওষুধ কি নেই সহজলভ্য, চুষে খাওয়ার
হাড়ের ভেতর বুঁদবুঁদগুলো কাকে দিয়ে মুচড়ে ফোটাই?

কাতর মুখ দেখে কষ্ট লাগে
পাঁচটি টাকা দান করে দেই
ভাল্লাগে না এই শহরে
কোথাও আমার বলারও নেই।