আকরাম খানের একগুচ্ছ কবিতা
প্রকাশিত : আগস্ট ০৮, ২০১৮
গুজব
আম্মা নিষেধ করেছিল
নতুন বৌ আদর করে ভুলাতে চেয়েছিল
আব্বা বারণ করেছিল
দরজার পাশের গোলাপ গাছ টেনে ধরেছিল।
তারপরও ছেলেটা একটা বুলেটের খোঁজে বের হয়—
বুলেটটাও বের হয় ছেলেটার খোঁজে।
নিয়তি নির্ধারিত সময়
নিয়তি নির্ধারিত জায়গায়
তারা ঠিকই মুখামুখি হয়।
মায়ের নাড়ানো নিষেধের তর্জনি
স্ত্রীর মেহদির খুশবু, চুড়ির মিহি শব্দ
ঘন কোকড়া চুলের উপর বাবার অভিজ্ঞ হাত
গোলাপের কাঁটা থেকে সাবধানে ছাড়িয়ে নেয়া পাঞ্জাবি
সব-সবকিছু একটা স্থির বিন্দু হয়ে মিলিয়ে যায়।
মহামান্য আদালত জিজ্ঞেস করে,
কোনো সাক্ষী কি আছে?
কোনো সাক্ষী কি ছিল?
বেঢপ ভুরি উঁচিয়ে উকিল মশকরা করে,
‘যখন সত্য ট্রাওজার পরা শেষ করে নাই
মহামান্য আদালত, মিথ্যা সারা পৃথিবী ঘুরে এসেছে’
হাসির দমকে দালান কেঁপে ওঠে।
শোনা গেল
সূর্য নাকি তখন হেলে ছিল পশ্চিমে
একটা নাছোড় টিয়াপাখি অনবরত চেঁচাচ্ছিল
ভাঙা কাঁচের একটা চশমা পা ফাঁক করে
চিৎ হয়ে পড়েছিল ঘাসের উপর
আর কাছেই দাঁড়ানো কাঁঠাল গাছ থেকে
একটা শুকনা পাতা খসে পড়েছিল।
শোনা কথায় কে আর কান দেয়!
তাদের কথা
যাদের উড়োজাহাজে চড়ার যোগ্যতা নাই
পায় না আকাশে ড়ার সম্মান
তারা মৃত্তিকা সংলগ্ন, তারা স্থলপথে যায়।
রাস্তা, মাঠ,ক্ষেত-খামার পার হয়ে জঙ্গল দিয়ে
যেতে যেতে যখন তারকাঁটায় বেঁধে যায়
তখন নদী-সমুদ্র দিয়ে যায়।
যাদের জাহাজে ওঠার কপাল নাই,
ঠাঁই নাই নৌকায় তারা সাঁতরায়।
সাঁতরাতে সাঁতরাতে মাঝ দরিয়ায়
টুপ করে ডুবে যায়।
ঈদের অফরমায়েশি কবিতা
লাল পাঞ্জাবি পরে বেরিয়েছিলাম
বিপ্লবী ঈদ উদযাপনে।
পাঞ্জাবির দুই দিকে পকেটের বদলে ছিল
জাদুর দুই থলে।
হাত দিতেই বের হয়ে আসছিল
চকচকে থোকা থোকা নোট!
আকাশে উড়িয়ে দিচ্ছিলাম সালামি-বকশিস্!
রিকশাঅলা, মুটে-মজুর, গার্মেন্টস শ্রমিক,
ছানিপড়া ফোকলা দাঁতের যত মুসাফির
শূন্য থেকে লুফে নিচ্ছিল, রাস্তা থেকে কুড়াচ্ছিল
মুজিবের ছাপ মারা অফুরান নজরানা।
রূপার অতল ডেকচিগুলো থেকে উপচে পড়ছিল
জাফরানে রাঙানো জর্দা আর পেস্তা বাদাম দেয়া সেমাই।
ধানমন্ডি, গুলশান, বনানীর মার্বেল পাথরের
বারান্দাগুলো থেকে পলিশ করা মুখের
আসল ফকিররা চোখ বড় বড় করে দেখছিল
শহরে নবাগত এই খাঁটি আমিরের ভেলকি।
আতশবাজির হৈ-হট্টগোলে চাঁদরাতে
ছাপোষা কাঁচা ঘুম আমার হায়, কেচে গেল!























