চিত্রকর্ম Sunil Abhiman Awachar
আবু তাহের সরফরাজের ছড়া
প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৮
কবি
সবার মাঝে থেকেও তিনি নিজ খেয়ালে থাকেন
কী যেন কী কল্পনা তার বুক পকেটে রাখেন।
নীল আকাশে মেঘের ডানা উড়তে দেখে তিনি
জানলা খুলে লিখতে বসেন ছন্দ রিনিঝিনি।
ঝিম দুপুরে হঠাৎ যদি কোকিল কোথাও ডাকে
গাঁয়ের মেঠোপথে তিনি খুঁজে ফেরেন তাকে।
বুকের ভেতর নীরবতা, ঠোঁটের কোণে হাসি
ফুল ও পাতায় লিখতে থাকেন, শব্দের সে চাষি।
মানুষগুলো সারাটা দিন কী যেন সব বলছে
চাল ও ডালের বাজার নাকি আগুন লেগে জ্বলছে।
সরকারি ব্যাংক হচ্ছে লোপাট, বর্গি এলো দেশে
অমুক নেতার চিমটি খেয়ে তমুক গেলেন ফেঁসে।
নাভির নিচে শ্বাস লুকিয়ে ছুটছে সবাই, ছুটছে
খুব নীরবে একটা মানুষ গোলাপ হয়ে ফুটছে।
৭ মার্চ
ঘাম ঝরছে তপ্ত রোদে
সূর্য মাথার ’পর
লক্ষ কোটি আমজনতা
কাঁপছিল থত্থর।
বাংলা নামের ভূখণ্ডকে
করতে হবে মুক্ত
এই চেতনা সবার ভেতর
ঘুমন্ত আর সুপ্ত।
সেই চেতনা জাগিয়ে দিল
শেখ মুজিবের হাঁক
সবার বুকে ঢেউ দোলালো
মাতৃভূমির ডাক।
রেসকোর্সে শোনান মুজিব
নতুন দিনের পদ্য
এই কবিতা বাংলা এবং
বিশ্বে অনবদ্য।
ভ্যানগগ
গোধূলির সোনারঙে স্বপ্নের ছবি
আঁকলেন ভ্যানগগ, ভিনদেশি কবি।
নীলিমার নীলে আঁকা তার ক্যানভাস
সবুজের মাঝখানে মাঠজোড়া ঘাস।
গোধূলির মাঠে মাঠে হাঁটে ভ্যানগগ
নীলিমার বুকে ঘুম দেয়া তার শখ।
পৃথিবীর ওইপাড়ে নীলিমার নীলে
ঘুম এলে ঘুমোবে দুইজন মিলে।
নীলিমার রঙছবি মুছে দিলে কেউ
থেমে যাবে সাগরের সবগুলো ঢেউ।
সূর্যের কাছাকাছি তাই ভ্যানগগ
ক্যানভাসে আঁকে নীল আসমানি বক।
খা বর্ণের শব্দগুলো নিয়ে ছড়া
খাটিয়ায় শুয়ে শুয়ে খামোখা খালাসি
খিটিমিটি করে রোজ, বউ তার পলাশি।
খানসামা খিদমতে বড় খামখেয়ালি
ছোটখাটো চাঁদ ধরে ঘরে দেয় দেয়ালি।
খাই খাই করে খালি খাপছাড়া খাদেম
খাবারের থালা হাতে ছুটে এলো হাতেম।
সারাদিন গেছে খুব খিচখিচ খিঁচুনি
খাটে বসে ছায়াবীথি হয়ে যায় নাচুনি।
খাঁখাঁ রোদ্দুরে খসে গেলে খানদান
খাতা খুলে আঁক কষে সোনা দিয়ে বানধান।
খাঁচা খুলে পাখিদের খেতে দাও খাজা
খাট থেকে নামলেন খাঁদাবোঁচা রাজা।
খিল দিয়ে দরজায় খালা খায় খিচুড়ি
খাদকের খাসি এসে খেতে চায় কচুরি।
খাজনার টাকাগুলো রেখে দাও খালে
খাতিরের লোক এলে ঠোনা দাও গালে।























