আবু তাহের সরফরাজের পাঁচটি ছড়া

প্রকাশিত : অক্টোবর ০১, ২০১৮

আমাদের বাড়ি

আমাদের বাড়ি ছেলেবেলা ছিল
আমাদের বাড়ি শৈশব
আমাদের বাড়ি বয়েসী এখন
আমাদের বাড়ি নেই সব।

রোদ আর ছায়া দুই সহোদরা
আমাদের বাড়ি এসে
লুটোপুটি খেত মায়ের আঁচলে
আমাদের বুক ঘেঁষে।

পুরনো সে রোদ নতুন এখন
উত্তাপ খুবই তার
ছায়ার শরীরে নেই আর সেই
ছায়ার অলঙ্কার।

ইচ্ছে

ইচ্ছে যদি
       মেলত পাখা  
             চোখের পাতায়
                     যেমন আঁকা  
                           উড়তে দ্যাখা চিল
                               আকাশ থেকে
                          চাঁদটা খসে
                   পড়ছে দেখে  
            লিখতে বসে  
দিতাম ছড়ায় মিল।

ঝাঁক বাঁধা ওই
          হাঁসের দলে
                 যেতাম আমি
                        খেলাচ্ছলে
                              কাপলা ফোটা বিল
                                     তেপান্তরের
                                মাঠ পেরিয়ে
                         দেশান্তরের  
                  দেশ বেড়িয়ে  
দিতাম ঘরে খিল।

নাদাপেটা খোকা

নাদাপেটা খোকা এসে নাড়– খেতে চায়
নাশপাতি দিলে হাতে নানাবাড়ি যায়।
নানাবাড়ি নারকেল গাছ সারি সারি
খোকা যায় চড়ে তার খেলনা গাড়ি।

শিপুখালা পরে তার নাকে নাকছাবি
নাঁকি সুরে বলে সে, খোকা নাড়– খাবি?
নাড়– হাতে নিয়ে খোকা হয়ে যায় নাচুনি
নাজেহাল শিপু খায় নাকানি-চোবানি।

পান দিয়ে খাও চুন

পান দিয়ে খাও চুন
গান গাও গুনগুন।
চুপচাপ দাও ঝাপ
চা খাও দুই কাপ।
হয় যদি চুলকানি
চুকচুক খাও পানি।
খাও যদি হুমকি
গলে পরো চুমকি।
করো যদি চুলবুল
বারবার হবে ভুল।
থাকো যদি চুপসে
ধমকাবে খুব সে।

জনগণ

জনগণ হুজুগে
ভয় পায় জুজুকে।
আজ যাকে ডাকে, দাদা
পরদিন বলে, গাধা।

জনগণ বোকা তাই
দেশ থাকে কব্জায়।
শোষণের যন্ত্র
হলো গণতন্ত্র।

ভোটারের অধিকার
শোষণের হাতিয়ার।
রাজপথে জনতা
প্রাণ দ্যায়, শোনো তা।

নেতাদের চালাকি
বোঝে কোনো শালা কি?