আবু তাহের সরফরাজের ৪ ছড়া
প্রকাশিত : জুলাই ২৮, ২০২৬
বিজ্ঞানী
কাগজ দিয়ে উড়োজাহাজ বানানো খুব সোজা
কোন দিকে ভাঁজ করতে হবে লাগবে শুধু বোঝা।
আবদুহু তাই খেলনা বানায় রঙিন কাগজ কেটে
ছায়াবীথি শেখায় তাকে ইন্টারনেট ঘেঁটে।
সত্যি উড়োজাহাজ এবার বানাবে আবদুহু
এই না শুনে বাঁশবাগানে ডাকল কোকিল, কুহু।
আম্মা বলেন, ‘পারবি খোকা? তুই কি অত জ্ঞানী?’
আবদুহু কয়, ‘পারব ঠিকই, আমি যে বিজ্ঞানী।’
ইসকুল
ইসকুল পড়তে আসে রোজ বাড়িতে
ছায়াবীথি তাই তো চড়ে রেলগাড়িতে।
ঝকঝক সুর তুলে রেলগাড়ি ছুটে যায়
ছায়াবীথি চুপচাপ চেয়ে থাকে জানালায়।
কত কত মাঠ আর পথঘাট পেরিয়ে
ছায়াবীথি ফিরে আসে পৃথিবীটা বেড়িয়ে।
এসে দ্যাখে, বই খুলে পড়তেছে ইসকুল
খাতা খুলে ছায়াবীথি আঁকে তাই ঘাসফুল।
ইসকুল পড়ে আর ছায়াবীথি হাসে
রাঙামুখে রাঙাহাসি ঝরে পড়ে ঘাসে।
আপন ছেড়ে বনেই ভালো
গাছের ডালে থাকেন তিনি
গাছের ডালেই ঘুমান
বিষটি এলে পাতার ফাঁকে
শরীর তিনি লুকান।
রাতের বেলা বাদুড় দেখে
ডাকেন তিনি আয় রে,
দুজন মিলে শেয়ার করে
গাছের লিচু খাই রে।
চাঁদের বুড়ি মুচকি হেসে
চরকা করে বন্ধ
দেখতে থাকে লোকটা যেন
একটুখানি অন্ধ।
একটু দূরে নিজের বাড়ি
লোকটা তবু যায় না
আপন ছেড়ে বনেই ভালো
আর সে কিছু চায় না।
এই বাড়িটা ভূতের
এই বাড়িটা কার যে কেনা
পিতৃপুরুষ নেই তো চেনা
বিষটি এলে আমবাগানে
সবুজ পাতায় ছন্দ আনে।
তিনটে পাখি রেলিং ঘেঁষে
ঝাড়ছে ডানা বিকেল শেষে
সন্ধে নামে আস্তে-ধীরে
বাড়ির পাশে নদীর তীরে
আমরা যারা নদীর পাড়ে
সন্ধে হলে দাঁড়াই না রে
ভাবতে থাকি, কার যে বাড়ি
ভূতের সাথে করে আড়ি
থাকেন তারা কত্ত দূরে?
গাছগাছালি পাখির সুরে
আসতে কী নেই এই বাড়িটায়?
ভূতের মতো নির্জনতায়।























