ঋতিল মনীষার একগুচ্ছ কবিতা
প্রকাশিত : জুলাই ২৮, ২০১৮
আলিঙ্গনে মুক্ত করেছি তোমাকে
আলিঙ্গনে মুক্ত করেছি তোমাকে
প্রেমে-সংগ্রামে
চুম্বনে বিনিময় করেছি গ্লানি,
যা কিছু অসম্ভব অসুন্দর
খণ্ড করেছি মিথ্যে প্রহর।
জ্যোৎস্নায় দিয়েছি বহুকাল,
পাশাপাশি বসে
মুক্ত নিঃশ্বাসে
স্বাধীন বিচরণ ভূমি, দিতে পারো
গুপ্ত ভূমিকম্প, মলিন আর্দ্র বৃষ্টি,
আমি বৃষ্টিতে খুঁজি শৈলপ্রপাত
ঘন মেঘে অবিচল দৃষ্টি।
বিরহে তোমাকে দিয়েছি ঠাঁই
চিন্তায়-চেতনায়
অবিশ্বাস অন্ধ সংস্কার
দূরে রেখেছি,
আবেগ নয়, অনুকম্পায় নয়
আমি মানুষকে বোঝার সম্ভাবনায়
তোমাকে বুঝতে চেয়েছি।
আলিঙ্গনে মুক্ত করেছি ভজন সাধনা
বুকে রেখে বুক,
গোটা যুদ্ধের রাতে অগ্নি জ্বলুক
মর্ম ছিঁড়ে নিয়েছি স্বপ্নের দায়ভার,
বিনষ্ট রাতের শেষে
অঙ্কুরে ভোর।
তোমাকে
তুমি আমার নিশ্ছিদ্র করুণ অন্ধকার হবে?
ভয়াল থাবা
অঙ্গার মরাল মাছ
শৃঙ্খল শ্লোকে বিদ্ধ!
তুমি কি আমার মৃত্যু হবে?
বেঁচে থাকার ভণ্ড প্রক্রিয়া দায়
নগর পুড়লে দেবালয় কি এড়ায়?
পুড়ছে নগর, পুড়ছে তোমার বাড়ির উঠোন
পুড়তে জানে কাচের বাড়ি, বাউলের সংসার
তুমি কি আমার পোড়া জমির ঘাস হবে?
অপসৃয়মাণ ক্রুদ্ধ বৃষ্টির জন্ম
ভেঙে ফেলে আস্ত জনপদ,
জনদৃষ্টি খুঁজে ফিরে লাশ
সাতসকালে সাঁতার
নিষিদ্ধ পুকুরে।
তুমি কি আমার আগুনমুখো জীবন হবে?
যে জীবনের দিবাস্বপ্নে কেটে যাবে বৃশ্চিক জীবনের শেকড়?
হলুদ খামে বিবর্ণ জোনাকি
আজ ভোর নিয়ে এলো
মেঘ ও বৃষ্টি
সংঘর্ষে চমকপ্রদ বিদ্যুৎ
ঘুম ভাঙে স্বপ্নে কয়েদির
অর্থময় শব্দের উদগীরণ
এই হাওয়ায়,
বর্ষার শ্রমসংগীত
কার অভিশপ্ত আশীর্বাদ বাজে
বৃষ্টির খবর আনতে গিয়ে
সে যেন জীবিকা ভুলে,
উপেক্ষা করে বহুবার
বৈভব-সম্মান-প্রতিষ্ঠার!
নেশার ঘোরে শব্দ-কল্পনায়
চিঠি আসে, প্রাচীন চিঠি
হলুদ খামে বিবর্ণ জোনাকি।
সর্বহারা-বাস্তুহারা-কুমন্ত্রণা
মহুয়া চষে শেষরাত,
দিগন্তে ভ্রষ্ট চাঁদের মায়া
ঘূর্ণায়মান মুকুর—
মৃত্যু দেখি।
ইদানীং
এক.
জগতে কতকিছু ঘটে নিয়ত
আমি নির্বিকার থাকি।
সিস্টেমের ভেতরে যাবতীয় বিদ্রোহ
আমি অভিযুক্ত,
নির্বিকার থাকি
’সিস্টেম’ ভাঙনের স্বপ্নদোষে।
দুই.
নদী ভাঙে
ভূমিকম্প
প্রাকৃতিক দুর্যোগ
এগিয়ে যায় ত্রাণশিবির
আমি দেখি শরণার্থী
ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়ছে
দেশশূন্য পথে—
শরণার্থী বাড়ছে আরও
আশ্রয়হীন-খাদ্যবিহীন
আমার মনোভূমি।
তিন.
মিছিলে ডেকো না এখন
ভেতরে থাকো অথবা বাইরে
যাবজ্জীবন কারাবাস,
কার কাছে আর্জি পেশ?
অল্পই সই,
আরেকটু তবু দিতেই হবে—
দিতে হবে, দিতে হবে—
মিটিঙে মিছিলে
আবেদনই সারা হলো।
কেউ বলল না, ছিনিয়ে নেব
দাবি কীসের?
আমার এখনই চাই সবই।























