অঙ্কনঃ সৈয়দ রিয়াদ হোসেন

অঙ্কনঃ সৈয়দ রিয়াদ হোসেন

ঋতিল মনীষার একগুচ্ছ কবিতা

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮

মাঠের চোখে নির্জন সাঁকো

রেখে যেতে পারতি তুই তোর তোকে
আমার অগোছালো টেবিলের উপরে
সমাপ্তি নেই এমন সব গল্পের শব্দেরা নিষ্প্রাণ পড়ে আছে এখানে
তোকে পেলে ওরা সব প্রাণ খুঁজে পেত।

দেড়শো বছরের বটগাছ ডাকছে নির্জন বনের ধারে
প্রাণের লোভে শীতের তীব্র কনকনে রাত
ভেঙে যাচ্ছে রেললাইন মানুষের পায়ের চাপে,
যাওয়ার উপায় নেই ফেলে দেয়া সাইকেলের খোঁজে
তারের বাক্স বাজে না দেয়ালের কাছে, থমকে আছে ধমনির দম
তুই পাশে থাকলে আমিও পারতাম দিনের পেটফুঁড়ে
গুপ্তধন ছিনিয়ে এনে তোর পায়ের কাছে রাখতে।

একটা অপূর্ণ সাকোঁর কথা তোর মনে আছে?
স্বপ্নেও ভয় জংলী নিয়মের শাসনে- ফেরার রাস্তা নেই
কাজে এলো না মেঘের সাঁকো একফোঁটা রক্তের অভাবে
শেষ হয় না দহনকালের দীর্ঘ স্তব্ধ কথার মারপ্যাচঁ।

আমি কি তোর ঘুম ভাঙালাম মাঝরাতে মনে মনে ডেকে?
অবিরল মাঠের দৃষ্টি ওপারে,
ভাঙছে সাঁকো আত্ম দ্রোহের ভারে।

প্রবাহে হারিয়ে ফেলা বিরোধ

মানুষ আর কত নেবে মেনে?
মেনে নেয় তবু অনুতাপে আর অভিযোগে আহার সন্ধানী মানুষ
নির্জনে একান্ত ছোট ছোট মৃত্যু সয়ে সব মেনে নেয়।

রেললাইনের পাশে শুয়ে থাকা মানুষ স্বপ্নেও পালায় পাড়ার আগুন থেকে
ঠাঁই নেই তবু দাঁড়িয়ে থাকে ভিড়ের ভেতর সতর্ক গহীন সাপের মতো
আঁস্তাকুড় ক্ষুদ্র দুঃখ- স্বপ্নের বিভেদ-মিলনে।

আর কত সহ্য করবে জ্যোৎস্নাগ্রাম খুঁজে খুঁজে বিহ্ববল চন্দ্রিমা
আঘাতের রাতে পড়বে না মনে মানুষের রাতের আধাঁরের লড়াইয়ে
উৎসুক শকুন আর চিলের জনপদ চষে চষে হাড় সন্ধানের খেলা!
নৈঃশব্দ্য ভেঙে খানখান ধ্বনি গুহা থেকে উঠে আসছে মানুষ ও প্রেত
অফুরান যন্ত্রণার বীজে পড়বে আগুন, ধ্বংস তবে সৃষ্টির খেলা?
মেশিনের বদলে মানুষের হাতে মুছে যাচ্ছে দিগন্ত
মানুষ ভীষণ ক্লান্ত অনুভব করে।

গাঁয়ের চোখে বিস্ময়
সর্ষেক্ষেত চিরে চলে যায় মৃদু অভিমান আর ছন্দের ট্রেন
ছুটে চলে আভাসের পিছু জীবন যখন স্নিগ্ধ কিশোর সূর্য
অহরহ কুঁচি- কাঁটায় দৌড়ানো... বাঁশের সাঁকো
পচন ধরা পায়ে মানুষ বের হয়ে পড়বে রূপনগর ছেড়ে
নৌকার বোঝা, নদীর অসুখ পাতালপুরী ভ্রমণশেষে
অনেক ছেড়ে আসে বলেই মানুষ মেনে নেয়
গভীর ঘোলাজলে সুড়ঙ্গ খোঁড়া মানুষ সব মেনে নেয়।

আজ তুমি কোথাও যাবে কি

আজ তুমি কোথাও যাবে কি?
কার কাছে যাবে?
শীতের বিকেলে কেউ কি ভাবছে
রেললাইনের পাশে আনমনা রাস্তাটির কথা?
সবার বাসায় ফেরার তাড়া।
তবু যদি কারও মন থাকে যার অনেক গভীরে নেমে
গভীরে অতলে সুরভি রেণুজলের সন্ধানে
স্বল্প আয়ুকে পেছনে ফেলে হঠাৎ ইচ্ছে করে ছুঁতে
সম্পূর্ণ অন্য আরেকটি লোক
ফটকে যে আটকা পড়ে আছে
তাকে টেনে নিয়ে বাড়ির উল্টো দিকে যেতে,
তবে এসো…
কুয়াশা মন্থন করে হেমন্তের ঝরাধান কুড়াই
জানি, সুপ্রভাতে পৃথক জীবন নিয়ে তুমি একা চলে যাবে।