এলিজা খাতুন
এলিজা খাতুনের দুটি কবিতা
প্রকাশিত : মে ০৩, ২০২০
রোদ মাখা চিঠি
এবারের অসুখ ভালো হয়ে গেলে
শিমুল ঝরা পথে রাখবো দ্বিধাহীন গমন
বৃষ্টি এলে ছড়াবো ফুল ও ফসলের বীজ
নিশব্দ রাতে দারুণ দহনে বুকের সমুদ্রে
জেগে ওঠে যে মৌন প্রবাল দ্বীপ
তা বহুযুগের সঞ্চিত দুঃখ-বঞ্চনার জীবাশ্ম
এইবার রাত ফুরালে প্রবাল কুড়াবো
বোঝাবো তা অমূল্য কত!
রোদ এলে মেলে দেব ফাঙ্গাস পড়া বোধ
এইবার সময়ের ক্ষত সেরে গেলে
আহত সাধনার ছেঁড়াগুলো জুড়ে নেব
মীমাংসা-রং যদি প্রিয় সবুজ মনে
ধুসরতা আনে; তবে—
হৃদয়ের গহীন থেকে তুলে দেব দিব্য বিভা
এইবার যদি দেখা হয়
বাতাসের অন্তর নাড়িয়ে
যাব মানবিক অন্তরে
এইবার ভোর হলে উঠোনে দাঁড়িয়ে
দু`হাতে নেব রোদের ফালি
নিঃশেষ করবো অবিশ্বাসের জীবাণু
সৌন্দর্যে হাত ছুঁয়ে শপথ নেব
দুপুরের ঊর্বর রোদে—
শুশ্রূষা দেব শস্যের প্রসূতি মা-মাটিকে
আরও আরও হাত এইবার জড়ো হলে
ঘুণ ঝেড়ে স্বপ্নবান হাতিয়ার করে নেব সকলেই
এইসব খবর পাঠাচ্ছি ক`দিন ধরে
যদি ফিরতি চিঠি পাওয়া যায়...
যদি দুর্দিনে
ভিজে আসা খবরের গায়ে পড়ে রোদ্রের তাত
গোধূলির দিগন্ত-রোদে তাকিয়ে
বাড়াতে থাকবো অপেক্ষার বয়স
প্রবাহ-প্রতীক্ষা
কারখানার বাতাসে—
প্রবঞ্চনার বিষাক্ত স্বাদের মতো
এই শহর আজ অসহ্য তিক্ত
নির্জন মহল্লায় ধূসর গলির শেষ প্রান্তে
গোধূলির লাল আভা দেখে দেখে
বসে আছি অনির্বাণ এক পলকে
মৃত্যুর খবরের পেছনে মৃত্যুর খবর দাঁড়িয়ে
পাতাঝরার মতো ঝরছে প্রাণ
উদ্বেগে হাঁসফাঁস সমস্ত হৃদয়
আঁকড়ে ধরার মতো মুখ খুঁজি আশপাশে
হাতড়ে মেলে না তেমন নীরেট চোয়াল
স্মরণ করি—
যারা সম্মুখে এগিয়ে গেছে ধাবমান শিখার মতো
নদীর মতো যারা এঁকে গেছে আত্মোৎসর্গের পথ
জীবনের সনদে; যারা সিললমোহর লাগিয়েছে—
দাসত্বের জোয়ারের উপর
শৃংখলের লজ্জার উপর...
অমন মুখ ভেবে ভেবে প্রতীক্ষায় থাকি
মৃত্যুর চেয়ে ভয়ানক ক্ষুধা-যন্ত্রণা-প্রাপ্ত মানুষেরা—
ঢেউয়ের ফেনার মতো উথলে উঠুক
ত্রাণের শস্য লোপাটকারীর দিকে—
তেড়ে আসুক কাড়ি কাড়ি জনস্রোত
দিন গুনি
নদীর মতো কখন প্রবাহিত হবে জনতা!
আর যোগ হবো মানুষের প্রবাহে!























