এস এম শাহরুখ পিকলুর দুটি কবিতা
প্রকাশিত : নভেম্বর ৩০, ২০১৭
একটু ঘুম
দু’দিন থেকে আমি ঘুমোই না
ঘুম কি ছেলেখেলা?
পকেট খালি পেটে নেই ভাত
ঘুম যেন ছেলের হাতের মোয়া।
পূর্ণিমার চাঁদটা দ্যাখাচ্ছে বেশ
কিসের ঝলসানো রুটি?
দেখছি রাতের বেলা অযাচিত যত আলো
চাঁদের বুড়ির স্তনে দেই এক কামড়...
হাঁটতে হাঁটতে চলছি পথ
স্যান্ডেল গেল ছিঁড়ে
হোটেল না, এক টায়ার দোকানের পরে।
নাই টাকা তো হয়েছে কি
দিলাম অর্ডার, টায়ার ফ্রাই আনো
লাথি খেলাম, ভরলো না পেট
খিদের সাথে ব্যথার যোগ হলো।
ঘুম আর কপালে নেই
সময় নতুন রাস্তা খোঁজার।
চুরি করবো?
পকেট কাঁটবো?
দরকার কি আবার লাথি খাওয়ার?
রাস্তা একটা পেতেই হবে
তাই খুঁজছি রোড-রোলার,
পাব তা কই?
রাত্রি যে প্রায় কাবার।
নবারুণ যে বলেছিল
রাস্তা বানানো দেখতে,
এত রাতে রাস্তা কি কেউ
বসে আছে বানাতে?
জ্যামিতি
শ্রাবণের আকাশে কোনও ফাঁক নেই
একটু ধরে আসে মাঝে কিন্তু ঝরেই চলে,
রাস্তায়, রিকশায়, মানুষের ছাতাহীন মাথায়।
ভিজে চুপচুপে কাক, রিকশাঅলা
পলিথিনে ঢাকা মাথা তার শুকনো,
ভিজতে চায় না সে রিকশার যাত্রী তবুও
ধীরে ধীরে ভিজে চলেছে।
আমি বৃত্তের ওপর একটা ত্রিভুজ বসাতে চাইছি-
বসছে না, বসতে চায় না, কখনও বসবে না।
কাজে চলেছে মানুষ, তবু আটকে যায়
বাসে বসে বসে ভেজে– ঘামে, বৃষ্টিতে না।
বৃষ্টিতে ভিজতে মন চায়
কিন্তু তা হবার নয়।
গায়ে বৃষ্টির গন্ধ মাখতে চায়
ঘামের দুর্গন্ধই কপালে জোটে।
দৌড়াবে সে? কোথায়?
ঘাম যে তাকে তাড়া করে ফিরবে।
এ শরীরে আর বৃষ্টির গন্ধটা জুটবে না।
আর আমি,
আমি বৃত্তের ওপর একটা ত্রিভুজ, না বসবে না।
আমার কোনও কাজ নেই।
বারান্দায় বসে ন্যাড়া কদমফুল গাছটাকে ভিজতে দেখি,
একটাও ফুল নেই সে গাছে, আছে ভেজা কাক
চুপ মেরে বসে আছে, আর আমি
আমি ভিজি না, ঘামিও না, বৃষ্টিতে যাই না।
মিসির আলীর ধূসর শার্টটা ভিজে কালো হয়ে গ্যাছে
ছাতার দুটো শিক বেঁকে তা ধসে পড়েছে খানিক-
আর বৃষ্টিকে ঠেকাতে পারে না।
রাস্তার গর্তে কাদামাখা খয়েরি পানি নাচছে
টুপ টুপ করে বৃষ্টি পড়ছে তাতে।
নেড়ি কুকুর মিটিমিটি চোখে তাকায়
লোমগুলো সেই কবে গেছে ভেসে।
চায়ের দোকানে ক্ষণিকের আশ্রয়
না-চাইতেও এক কাপ চা খাওয়া
ভেজা সিগারেটে ধোঁয়া ছড়ায় বড় বেশি-
নিভু নিভু কিন্তু নেভে না,
কাশতে থাকে বৃদ্ধ, আয়ু ফুরোয়নি এখনও তার।
গাড়ি নিয়ে সে আসবে বলে আসেনি-
ভিজে ল্যাপ্টানো কামিজে বৃন্তের ইঙ্গিত;
সেজেছিল আজ বেশ করে মেয়েটা
চোখের জল আর আই-শ্যাডোর নীল মিলে
গড়িয়ে পড়ছে দুটো রঙিন ধারা, কালচে-
বৃষ্টিতে কান্না কেউ দ্যাখে না।
ছাতার কোনও দোষ নেই, নেই বৃষ্টির
দোষ নেই না-আসা ছেলেটার বা বৃদ্ধের,
মিসির আলী-ই বা করবে কী?
দোষ সব আমার, কারণ
আমি বসে বসে বৃত্তের ওপর একটা ত্রিভুজ বসাতে চাই
বৃত্ত চায় আরেক বৃত্ত, ত্রিভূজ খোঁজে আরেক ত্রিকোণ
কিন্তু আমি এক ত্রিভূজ হয়ে বৃত্তে বসতে চাই।
কোনও দিন হবে না, হয় না, আগেও কখনো হয়নি।























