কাজল কাননের করোনাকালের কবিতা

প্রকাশিত : এপ্রিল ১৩, ২০২০

একটি ডুমুরগাছ

আমাদের পাড়ার ডুমুর গাছটি এখন
চুম্বন করে আছে
ছয়শো কোটি ডুমুরের মৃত্যু!
তার ডালপালা ঘিরে চলছে অবাক লকডাউন
পাতার ফাঁকে ফলিতেছে অজস্র নিথর ডুমুর

কত-কত রাত, কত-কত দিন এই পাড়ায়
কুসুমচাপা অভিমান ছুঁয়েছিল ব্যক্তিগত মৃত্যুর অমর মৌনতা
সেও হারিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার কবরের মুখর আয়োজনে
সন্তান যদি ছুঁয়ে না দ্যাখে মায়ের মৃত্যু, স্ত্রী যদি বুজিয়ে না দেয় স্বামীর অশেষ শীতল চোখ
কোন যম এসে তরজমা করবে এই শোক!

সকল দেশে একক ভাষায় মৃতের আলাপ
ঘরে ঘরে ছড়িয়ে যাচ্ছে গণমৃত্যুর তাপ
এত এত মৃত্যুর সৎকার
একাই পারবেন তো ঈশ্বর!

ধান

পৃথিবী কত অগভীর!
সব ধান নুয়ে পড়ছে
ধানগুলোর মাথা ঠেকছে
ঠনঠনে মাঠে।
ভূবনভরা ধানের অবনতি
ঠেকানোর মতো গভীরতা কই

ধানের ফলন ঢাউস হলেও
পৃথিবীর গভীর গোলা নেই

সকল মাঠ ছুঁয়ে আছে
নত হওয়া ধানি মৌনতা

লকডাউন

তুমি সাঁতার না জানলে
এমনিতেই নদী লগডাউন
হাঁটতে না পারলে পথও

নাগরিক চিত্তে নিজের ছায়াও
কোয়ারেন্টেইন

তীরবর্তী মানুষ
কারা সাঁতার জানো না
কারা খর্ব হয়েছো পদে, ডানায়
আমি তোমাদের একজন
জীবনভরই ব্যক্তিগত লগডাউন

এই খর্বায়ন কবে আমার মা হয়ে গেল
পাঁজর ছেঁটে ফেলা এই সভ্যতা
কী করে আমার বাবা হয়ে গেল

তীরবর্তী মানুষ, ডাঙায় লকডাউন
নদীতে সাঁতরাও, তবুও বাঁচো
তুমি না বাঁচলে সবকালেই
আমি লকডাউন

মানুষ

প্রতিটি ঢেউ স্বতন্ত্র
তবুও নদী একটি
কে বলো সবাই একবিশ্ব
আমরা কি তেমনটি দেখি!

তবুও তোমাদের বেদনা ছুঁই
ছুঁই সর্দি-হাঁচি
জাত-পাতের আফিম খেয়ে
মহামড়কে বাঁচি!

ভেদাভেদের ঘোর অপ্রেমে
বহু রক্ত গেছে নেমে
এবার থামুক অহংকার
প্রতিটি মৃত্যু সংখ্যার

ডাকনাম হোক— মানুষ