ক্ষুধার তীব্র যন্ত্রণায় কাঁদছে গাজার শিশুরা

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : মে ২১, ২০২৫

ক্ষুধার তীব্র যন্ত্রণায় কাঁদছে গাজার শিশুরা। এরপরও ইজরায়েল থামিয়ে রাখেনি তাদের হামলা।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) পূর্ব জেরুজালেম প্রতিনিধি আন্তোয়ান রেনার্ড বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “গাজার লাখো মানুষ অনাহারের মুখে। শিশুরা কাঁদছে ক্ষুধার যন্ত্রণায়। আর কিছু না হলে এই সংকট মৃত্যুতে পরিণত হবে।

তিনি আরও বলেন, “ইজরায়েল কিছু সীমান্ত অস্থায়ীভাবে খুলে দিলেও তা গাজায় তীব্র খাদ্য সংকটের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। এখন পর্যন্ত কেরেম শালোম সীমান্ত দিয়ে কয়েকটি ট্রাক গাজায় ঢুকতে পেরেছে। কিন্তু ইজরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে সেগুলো বিতরণ করা যাচ্ছে না। জাতিসংঘের মাধ্যমে বিদ্যমান খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা দরকার। তা ভেঙে দিলে পুরো গাজার জনগোষ্ঠী অনাহারের মুখে পড়বে এবং আমরা তা ঠেকাতে পারবো না।”

দক্ষিণ গাজার এক নার্স বিবিসিকে হোয়াটস অ্যাপ বার্তায় বলেন, “আমরা তপ্ত রোদে তাঁবুর নিচে থাকি। পেটে কিছু নেই। আমার সন্তানরা ক্ষুধায় কাঁদছে। একজন মা হিসেবে আমি অসহায়— না পারছি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে রক্ষা করতে, না ক্ষুধা থেকে, না গরম কিংবা পোকামাকড় থেকে।”

খান ইউনুসের এক বাবা বলেন, “আমি ভালো নেই, আমার সন্তানরাও নয়।”

গাজা প্রশাসনের দাবি, ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ইজরায়েলের ‘ক্ষুধানীতির’ কারণে ৩২৬ ফিলিস্তিনি মারা গেছে।

জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, ১৪ হাজার শিশুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হতে পারে, যদি খাদ্য সহায়তা না পৌঁছায়।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ইজরায়েলি বাহিনী গাজায় নতুন করে হামলা অব্যাহত রেখেছে। মঙ্গলবার ভোর থেকে এখন পর্যন্ত ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনাও ইজরায়েলকে থামাতে পারছে না।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ইজরায়েলি হামলায় ৫৩ হাজার ৫৭৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ২১ হাজার ৬৮৮ জন আহত হয়েছে। তবে এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে এবং নিখোঁজদের মৃত বলে ধরা হলে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। সূত্র: বিবিসি ও আল জাজিরা