জুয়েল মাজহারের কবিতা ‘রাগী এক টিয়া নিয়ে ঘুরি’
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯
১.
বক্রচঞ্চু রাগী এক টিয়া নিয়ে ঘুরি দিনরাত
বটফল ভেবে টিয়া ইচ্ছামতো আমাকে ঠোকরায়।
ব্রুটাস যেমন তার তীক্ষ্ণধার ছুরিটি চালায়,
অতর্কিতে সেই টিয়া
রক্তাভ হৃদয়পিণ্ডে চঞ্চু গাঁথে
কাঁধে বসে মাংস খুঁটে খায়;
২.
কর্কশ ভঙ্গিতে টিয়া জন্ম-ত্যাড়া গ্রীবাটি নাড়িয়ে
ক্রূর চোখ লাল করে বলে:
সাধু ওহে, পরার্থে তণ্ডুল করো দান।
৩.
মনে হয়, মতিভ্রম! পড়ে আছি রম্য কারাগারে!
অথচ একদা ছিলাম সমুদ্রে আর সমুদ্রের উপরে বাতাসে চলমান।
আর আজ? সমুদ্রের সঙ্গে কতো হয়েছে দুস্তর ব্যবধান
৪.
সৈন্ধব লবণ, কাচ, সৈকতের বালি ও কাঁকর
গভীর প্রশান্ত রাত্রি, ব্রোঞ্জের পেখম আর শাদা
শঙ্খের ভেতরে সুপ্ত গর্জনের মতো আদিমতা
রাত্রির মুঠোয় ধৃত কম্পমান বহুবিধ আসমানি রঙ
বহু মৃত নক্ষত্রের হাতছানি ভুলে গিয়ে আমি
বদরাগী টিয়াটিরে কেন, হায়, দিয়েছি জীবন!
৫.
না-শোনার মতো আজ নিজেকেই বলি বারবার:
ওহে স্থলচর, এবার আগল ভেঙে তুমি ফের জন্মজলে নামো!
জাফরান ঢেউগুলি তোমাকে ডাকছে, শোনো, সমুদ্রে আবার!
৬.
চালাক টিয়াটি সব টের পায়। অপাঙ্গে তাকিয়ে
শ্র্যাগ করে, মুচকি হাসে। টুপ করে লাল চঞ্চু থেকে
বাদামের একটি-দুটি উপাদেয় দানাকে খসায়।
ভিখেরিকে শোনাবার মতো করে তারপর ঢেউকে শোনায়:
সমুদ্রের দুই-পেয়ে ঘোড়াটি তো কেবলই আমার!
কোনোদিন তুমি একে চুপিচুপি ভোলাতে এসো না।
আমি একে পরিয়েছি গল-ঘুণ্টি। অদৃশ্য লাগাম।
গৃহের চক্করে এর এবং তোমার
সমুদয় দৌড় বাঁধা আছে
৭.
তুমি এক জন্ম-দাস;
মানুষের অবয়বে দুই-পেয়ে ঘোড়া;
ছায়ার কঙ্কাল তুমি। তোমার পেছনে
রাশি-রাশি উচ্চৈঃস্রবা ভবিষ্য কঙ্কাল
৮.
আজ, হায়, রাগী টিয়া লোহুমাখা মাংস শুধু চায়
শোণিত বিহনে সে তো করবে না কোনোদিন স্নান!























