তিনটে কবিতা
অমিতাভ পালপ্রকাশিত : এপ্রিল ৩০, ২০১৫
ভাষাশহিদ
ধুম শব্দ হচ্ছে চারদিকে
নাগরিক সন্ধ্যা ভরে যাচ্ছে শব্দের শাসনে
ইঞ্জিন হর্ন কথোপকথন
চায়ের কাপে চামচের লাফালাফি
দরাদরি এসির গুঞ্জন
টুপ করে খসে পড়া ঘামের ফোঁটা
সবাই একসাথে কথা বলছে নিজের নিজের ভাষায়
আর আমরা দর্শনার্থীর মতো তাকিয়ে আছি
সেইসব দেয়ালের দিকে-
যাতে ঝোলে জাদুঘরের প্রদর্শন সামগ্রীগুলি
আমাদের চোখভরা নিজের গুহায় ফিরে যাবার মিনতি
সেখানে আমরাও চিৎকার করার সুযোগ পাবো-
দয়া করো
ধুম শব্দ হচ্ছে চারদিকে
নাগরিক সন্ধ্যা ভরে যাচ্ছে শব্দের শাসনে
আর আমাদের বোবা মুখ গরাদের ভিতর দিয়ে
চোখ মেলে খুঁজছে আমাদের গুম হয়ে যাওয়া ভাষা
এককালে আমরাও কথা বলতে পারতাম
নিঃসঙ্গতা
আমি যেসব মুখগুলিকে চিনতাম
তারা সব এখন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আড়ালে
আত্মগোপন করে আছে
আর তাদের হয়ে কথা বলছে তাদের বিক্রেতারা
আমি মাঝেমাঝে সেইসব সব্জি পাঁচশ গ্রাম
কিংবা এক কেজি কিনে বাসায় ফিরি
অনেক দরাদরি শেষে
আমি যেসব মুখগুলিকে চিনতাম
তারা সব এখন শ্যাওড়াপাড়ার সন্ধ্যার বাজারে বসে
লোকটা
লোকটা বোঝাচ্ছে-
অধ্যাপকদের মতো তার টাক মাথায়
সংখ্যালঘু চুল
চোখে মানানসই চশমা
আর তার ভাষায় বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
নির্দেশের সৈন্য সামন্তেরা
লোকটা বোঝাচ্ছে- আমাদের
কি করণীয়























