অলঙ্করণ: পাপিয়া জেরিন

অলঙ্করণ: পাপিয়া জেরিন

দীপ্ত উদাসের একগুচ্ছ কবিতা

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮

নিদেনপক্ষে দর্পণ যদি হওয়া যেত

দর্পণ হলে অন্তত আমি সহ্য করতে পারতাম না।
স্নান সেরে উন্মুক্ত স্তনের সৌন্দর্য প্রদর্শনে যখন ব্যস্ত থাকতে
তখন অন্তত কলম চালানোর কিছু উপাদান আমি
ঠিকই সংগ্রহ করতাম
অন্তত স্তনযুগল হাতের মুঠোয় তো তুলতামই সুযোগ বুঝে।
তাই বলে আমাকে ভুল বুঝে দর্পণ দর্শনে ইস্তফা দিও না
আমারও হক বলে তো একটা ব্যাপার আছে
আমাকে তাদের থেকে আলাদা ভাবতে পারো-
যারা কোলে করে কুকুরছানা পালন করে আবার ওই হাতেই মানুষ হত্যা করে
আমি হয়তো ভিক্ষুককে দান করি না তবে আমার (দর্পণ) দিকে তাকিয়ে
সবাই তার বাহ্যিক খোলসের অবয়ব দেখে আনন্দ পায়।
কেবল তোমারও আমি ওইটুকুন ক্ষতি করতে পারি।

শুকনো পাতার শিরায় যেমন থাকে ভাগ্যরেখা

মৃত্যু ধীরগতিতে জীবনের দিকে এগিয়ে আসছে। শরীর খাঁচায় আবদ্ধ। রূহ ছানাটা ছটফট করছে। একবার সীমান্ত না জানা পাখির মতো ডানা ঝাপটাবার জন্য। স্বপ্নগুলো সব চায়ে চুবানো ওভালটিন বিস্কুট, মুখ পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই ঝরে পড়ে।

তবে স্বপ্ন এলেই গাছ সবুজ পাতার কসটিউম পরে, নতুন পাখিরা তার স্বরে অভিনয়ের স্ক্রিপ্ট পড়ে পড়ে শুনিয়ে ডায়ালগ মুখস্ত করায়। ওদিকে গোলাপের বয়স বেড়ে পাপড়ি ঝরার দিনে পথশিশু সালেহা কিছু হয়তো গোলাপ তোলে পরম যত্নে আর নাক সিটকোয়। শীতঝরা শুকনো পাতারা বাতাসের সাথে সখ্য গড়ে তোলে। ওরা একে অপরকে ভাসায়, ভ্রমণ করে আলহীন পৃথিবীতে...

পাঠশালা

ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি, বেজে ওঠে শাহবাগ
হাঁটতে থাকি,
ঘড়িতে হঠাৎ অ্যালার্ম বেজে ওঠে বনশ্রীর
ছুটতে থাকি,
হঠাৎ দেখি ঘড়িতে বেজে গেছে ফার্মগেট
দৌড়াই,
ঘড়ি অলস ভঙ্গিতে সময় জানিয়ে বলে,
কার্জন,
শুয়ে পড়ি।

ঘড়ি খুলে উল্টো করে রাখি ঘড়ির ডায়াল্স
দেখি, ঘড়ির সময়ের অপর পিঠে জেগে আছে মতিহার,
কী রুক্ষ অথচ থকথকে গাঢ় নীল সময়!

আর আমি কোনো শব্দ শুনি না...

অ্যান্টেনা

নিপুণতার প্রতিযোগিতায় পরাজিত হবে ভাস্কর্যশিল্পী। তার নখের টিপুনি মডেলের প্রতিকৃতির নড়াচড়ায় বিঘ্ন ঘটাবে! কিন্তু নিপুণ ঠোঁটের ভ্রমণে মমি হবে তুমি, খোদার কসম! শেষ যাত্রার আয়োজনে গোরখোদক হয়তো পারিপাট্যের ভান করবে। কেননা কিছুটা তাড়াহুড়া থাকবে, থাকবে কিছু মৃত্যু ভয়ও। তবে মসৃণ অঙুলি চালনায় আমার ভক্তিই থাকবে নির্ভয়ে। পেন্সিল-কলমের স্কেসে নয়, ঠোঁট তোমার অলিগলি ঘুরে এসে রিপোর্ট জমা শেষে জানাবে জার্নিটা ভালোই ছিল।