নভেরা হোসেনের ৬ কবিতা

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯

গ্রাভিটেশন

বৃষ্টির দিনে ঘর বন্ধ হয়ে বসে থাকো
বাইরে ক্যাটস অ্যান্ড ডগ
দোতলার বারান্দায় মাধবীলতা
‘এমন দিনে তারে বলা যায়,
এমন ঘন ঘোর বরিষায়’
বৃষ্টি তোমাকে একটু একটু করে টানছে
ছাদ পর্যন্ত উঠে গেলে
মুষল বৃষ্টিতে কিছু দেখা যায় না—
চোখ খুলতেই জলের ঝাপ্টা
প্রেমিকের মতো জড়িয়ে আছে

তুমিও ভিজছো বৃষ্টিতে
যেন কতকাল পরে দেখা

হাসপাতাল

হাসপাতালে বসে থাকো
লোকজন আসে-যায়—
কেউ আসে রোগী দেখতে
কেউ আসে গল্প করতে
অনেকে আসে হাসপাতালে নরম চেয়ারে ঘুমাতে,
প্রেমিক–প্রেমিকারা আসে প্রেম করতে—
হাসপাতালেরও ক্লান্ত লাগে
কখনো ইচ্ছে করে রমনায় হাওয়া খেতে
অথবা দূর সমুদ্রে পরিযায়ীর মতো ঘুরে বেড়াতে,
তখন হাসপাতাল রোগীদের ভুলে
লেক্সটানিল থ্রি মিলিগ্রাম খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে,
সকালে ইমার্জেন্সিতে ঘুম ভাঙে তার
ওডিকোলনের কড়া ঘ্রাণে

পাস্তা উইথ চিজ

রেস্তোরাঁর নীল পর্দা ঘেরা ঘরে
মৃদু সুগন্ধি
ওয়েটার নিয়ে এলো পাস্তা উইথ চিজ
পাস্তার পরতে পরতে চিজের প্রলেপ
পাস্তা একাই তোমাকে সঙ্গ দিলো
হেমন্তের বিকেলে—
তোমারও নিঃসঙ্গ লাগলো না
রেস্তোরাঁর বন্ধ ঘরে

চশমায় বন্দি

চশমায় বন্দি তুমি হাঁসফাঁস করো
কখনো চশমা খোলো না
একমাত্র ঘুম আর স্নানে—
স্বপ্নে চশমা পরা নিজেকে দেখো
নদীপথে চশমা
পাহাড়ে, সমুদ্রে—
পথে যেতে যেতে কত কথা মনে পড়ে
কত কথা মনে পড়ে না
চশমায় বন্দি তুমি
স্বল্প দূরত্বে আটকে থাকো,
দীর্ঘ দূরত্ব দূরে চুপচাপ বসে থাকে….

রাত্রি

রাত্রি অনেক হলো
পাতারা ঘুমিয়ে পড়েছে
একটানা ডেকে চলেছে নাম না-জানা পাখি
লোকালয় নিঝুম
দিঘির জলে চাঁদ ভেসে আছে
সবাই ঘুমিয়ে
তোমার মনে অনেক কথা
সব হারিয়ে যাচ্ছে বাতাসে
রাত্রি অনেক হলো ঘুম নাই চোখে
দরজায় প্রহরী

পপিক্ষেত

সারি সারি পপিক্ষেত
তার মাঝদিয়ে চলে গেছে সরুপথ
তোমার যাবার একটাই জায়গা
সেখানে সবাই যাচ্ছে—
কেউ দেরিতে কেউ অতিদ্রুত
লম্বা পপির ডগায় লালফুল হাসছে
একটা কালো ছিটের ঘুঘু উড়ে বেড়াচ্ছে
ঝকঝকে আকাশে উজ্জ্বল আলো
কৃষকরা ট্রাক্টর দিয়ে মই দিচ্ছে
দূরে উঁচু পাহাড়—
সেখানে গুঞ্জার ফুল মাথায় কপোত-কপোতি
চর্যাপদের কাহ্নপা নদীকূলে অপেক্ষমান
পপিক্ষেতে ভরে গেছে সমস্ত আকাশ
তুমিও উড়াল দিলে শূন্যখাঁচা ছেড়ে