পলিয়ার ওয়াহিদ

পলিয়ার ওয়াহিদ

পলিয়ার ওয়াহিদের কবিতা ‘মা পাখিদের ঘ্রাণ’

প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৪, ২০২৬

মাথার ওপর দিয়ে এই অবর বেলায় একটা পাখি উড়ে গেল
আমি মরবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম
যদিও আমার পূর্বপুরুষের কেউ আত্মহত্যা করেনি
কেন পৃথিবীর এই ঝুলন্ত ডালে গামছা বেঁধে মরবার পণ করছি?
উত্তরের বাতাসের কাছে প্রশ্ন রেখেছি
সে বধির হবার আগেই আমাকে চিঠি লিখেছিল
আমি তার উত্তর দিতে সময় পাইনি
এখানে শহিদের মওসুম চলছে!

আমার গুরে খালা মরে গেল
সংবাদ শোনার পর থেকে তার স্মৃতির আঁচলে লুকিয়ে গেছি
কাদাজলের রাস্তা পেরিয়ে খালা আমার সঙ্গে আসছে
তার কাঁখে ছালার বস্তায় নারকেল
ঢেঁকিতে কোটা আতপ চাউলের গুঁড়ো
আখের গুড় আর মুগডাল
আমার মাথায় চাল, একটা লাউ, মায়ের প্রিয় পান ও সুপোরি

আমাদের পৌঁছাতে সন্ধে হয়ে গেল
মা মাগরিবের নামাজের জন্য গোধূলির ভেতর ওজুর পানি ঢেলে দিচ্ছেন
খালা ঘেমে প্রায় গোসল
জ্যেষ্ঠ মাসের মতো খালা হাঁপাচ্ছেন!
মা তাকে কল থেকে এক গ্লাস ঠাণ্ঠা পানি এনে দিলেন
তার সেই ক্লান্তিকর মুখে প্রশান্তির হাসি
আমি সেই হাসিখানা বাঁধায় করে রেখেছি হ্রদয়ের তালপাখায়

খালা শীতকাল চলে এলো
তুই চলে গেলি
আমাদের চুলার পাশে বসে পিঠা আর খাওয়া হবে না?
আমরা মিষ্টিকুমড়া আর কাঁচকলা দিয়ে ইলিশ রান্না খাব না?
আমাদের কত কত আষাঢ়-শ্রাবণ
অগ্রহায়ণ ও ফাল্গুন
খাঁচা থেকে উড়ে যাবার আগে পাখির স্বাধীনতার মতো
আটকে আছে রোদের দরজায়!
তোর আদর-স্নেহ ছিল
জোছনার মতো মেদুর ও জোয়ারের প্লাবন
সেই মাগুরখালী মোড়
ভগবান পাড়ার সেক্সি মেয়েটা শংকরী
পাঁজের বিলের ইটপাকা রাস্তায় শুয়ে থাকা বিকেল
পাঁজিয়া বাজার
বড়েঙ্গার বুড়িভদ্রা নদী
কন্দপপুর, মঙ্গলকোট
তেইশ মাইল বাজার
কাঠের ওড়ং, ফুলদানি
আলতাপোলের গোলাঘাটা বিলের ঘোড়ার দৌড়
তোকে অমর করে রাখবে রে খালা!

মায়ের মুখের পাশে তোর ছায়া
আমাকে উধাও করে রাখবে জানি না কতটা কাল!