অলঙ্করণ: পাপিয়া জেরীন

অলঙ্করণ: পাপিয়া জেরীন

পাপিয়া জেরীনের প্রেমের কবিতা ‘সঙ সার’

প্রকাশিত : আগস্ট ২৬, ২০১৮

এক.
ধরো, স্বামী নামে একটা প্রাণী কুণ্ডলি পাকিয়ে শুয়ে আছে পাশে আর যোজন দূরত্বে তুমি;

একটা শ্যাওলা ছাদ
গাঁজার আসরে, তুমি বেমালুম ভুলে গেছো
স্বামী নামের একটা প্রাণীকে আমি জড়িয়ে—
অথচ, ধরে আছি তোমাকেই!

দুই.
দু’চারটা হান্টারে তোমার কিছুই হয় না, পুরোটা মাতাল হতে তুমি চলে গেছো মেথরবাড়ি। মেয়েদের বুক দেখছো, পাছা দেখে খিস্তি করছো— এইসব ভেবে প্রথমে তোমাকে... শেষে নিজেকে ধিক্কার দিই।

তোমাকে ঘৃণা করে, শিশুদের মুখে চুমু খাই। পবিত্র স্বামীর দিকে ফিরে আসি তীর্থযাত্রার মতো করে।

তিন.
মনে মনে স্মৃতিভ্রষ্ট হই

স্বামী নাই, শিশুরা নাই
দেখি, আখাউড়া জংশনে মুখোমুখি—

তুমি আর আমি
তুমি আর আমি
তুমি আর আমি...

চার.
একটা জলপাইরঙা ট্রেন তোমাকে নিয়ে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। কতদূর যাবে আর?
জানি, মনে মনে তার দ্বিগুণ বেগে ফিরে আসছো তুমি—

আমি আর সে, সে আর আমি
এই দুই গন্তব্যে তোমার পাখার বিস্তার
আমি আর সে, সে আর আমি—
দুজনের মাঝখানে তুমি একটা শাটলকক্
জিম্মি হয়ে আছো।

পাঁচ.
তোমার জন্যে চা করতে করতে
কাপের সেই সম্ভাব্য কোণে দীর্ঘ চুমু খাই
যেখানে তোমার ঠোঁট...

এরপর ঘরে আসি
দেখি, তুমি না— অন্য কেউ বসে আছে!

ছয়.
ব্লন্ড স্ট্রিপারের উদ্দাম নাচের দৃশ্য মাথায় নিয়ে তুমি বিছানার কাছাকাছি। জিভ চুয়ে পড়ছে ট্রাইবাল মদ। আমাকে আদর করতে এসে নিজেকে হারিয়ে ফেলছো ড্যান্সিং পোলে; আমিও ভেবে নিচ্ছি তোমাকে বেগানা পুরুষ।

এইভাবে বিছানার চাদরে লেপ্টে গেল অণু অণু বিকার। আমাদের হামিং পৌঁছে গেল ব্যালকনিতে।
ওটা ঘেঁষে নেমে নিচে গেছে ল্যাম্পপোস্ট।

আবছা আলোয় দাঁড়িয়ে দেখো নওল কিশোর—

ফ্রি ওয়াইফাই জোনে টেনে নিচ্ছে শীৎকৃতির রেণু, চিউউইং হাউল!