পুরান ঢাকার দর্জি বিশ্বজিৎ দাসের জন্য কবিতা

মাজহার সরকার

প্রকাশিত : আগস্ট ০৬, ২০১৮

বিশ্বজিৎ, আঘাতে হওনি তুমি কখনো একা
রক্ত যেমন জাগে তুমি সেই যুদ্ধনিষ্ঠ আনত উড়াল
তুমি শ্রমিক, তোমার সেলাইয়ের আঙুলে আজ এই পরাজয় মুছে নিয়ে
কেঁপে উঠি, স্বীকার করো এই বিনত মস্তক
বিশ্বজিৎ, তোমার শার্টে রক্তের অপেক্ষা থেকে নেমে আসা এই ক্ষমা কাউকে দিও না কখনো
একটি ফোঁটাও বিনামূল্যে বিনাযুদ্ধে
এই হাত শীর্ণ হয়ে আসেনি কপাটে

তুমি সেরে ওঠো বহুবার শান্ত থেকে বিদ্রোহগুলো এবার আমাদের দাও
আমরা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব ভোরের বিশ্বাস
বিশ্বজিৎ, রক্ত থেকে যেদিকে ছড়াই আগুন
তোমার ক্ষুধার ছাই, তোমার বাঁচার আকুতি
তুমি তখনও কিছু একটা বলতে চেয়েছিলে, কী সেটা?
বলো বলো, শরীরে তোমার রক্তদগ্ধ শিশুর নিরস্ত্র বিশ্রাম ভেঙে একবার বলো
স্বপ্নে ছাই, চোখে খাদ ফেলে নেমে যায় একস্রোত আলোর তৃণ

বিশ্বজিৎ, খুনে কখনো মরোনি তুমি একা
এই রক্তোত্তীর্ণ শার্টে স্বপ্নজবাব, দ্রোহের সংকেত পেয়ে
জোরালো হেঁটে উদ্বেল শ্বাসে কণ্ঠে নেব তোমার আঙুল থেকে
সেলাইশ্রমিকের প্রেরণা
তুমি ভাই, তুমি অতি পরিচিত, তোমার রক্তে
স্রোতের ওজন, তোমার দিকে চেয়ে আমাদের মাটির বর্ণের মতো মুখ নিচু জলে নষ্ট হয়
এই আগুনের ঋণ থেকে আলাদা করো না আমাদের

বিশ্বজিৎ, তোমার রক্তভেজা শার্ট ছিঁড়ে উঠে আসে আগুনের দ্বিধা
বাতাসের ভাঁজ থেকে অস্ত্রের গান
জানি, তুমি আর ভীত নও তাতে। সারাদিন ঝরুক স্মরণ
সারারাত আদালত পাড়ায় স্তূপ জমুক ক্লেদ
তবু তুমি একা নও, তোমার সম্মতি পেয়ে গেছি
বিশ্বজিৎ, রক্তের সন্ধানি ঘ্রাণ মেখেছে সেগুন
ক্ষুধার স্বাতন্ত্র্য ডাকে বিচারের প্রতিযোগে শিখেছি পাঠ গৃহ নুন অকৃতজ্ঞ সকল
তবু শরীর পড়েনি নুয়ে বিশ্বজিৎ
আঘাতে মুষ্ঠি ছেড়ে কখনো তুমি আমি হইনি একা।

পত্রিকায় দেখলাম, বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই দিয়েছেন আদালত। আহ, এ মুখ আমি এখন লুকোবো কোথায়!