অলঙ্করণ: দীপাঞ্জন সরকার
ফারুক ইমনের গুচ্ছ কবিতা
প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৭, ২০১৮
কঙ্কন
প্রবল জলজ তটে দু’একটি শালিখ, এই যে এত কোমল ওম জমেছে
একটি সকালের... তবু সে আসে নাই এখনও
নিপাট কে জানে কোথায় ঘুমিয়েছে
নরম
এখনন তীর ছোঁয়া কঙ্কন বাজে শব্দে।
মজনুন
বহুরাত নিশি-কামিনি জেগে আমাদের পাহড়া দিয়েছে। আজ তোমার বাড়ির পাশের শান্ত পুকুরে অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকার পড়ে পড়ে কাতর হয়ে উঠছে। তোমার জানালার গ্রিলে উঠে যাওয়া লতানো ফুলবতীটি করুণ সবুজ মেখে আজ নির্লিপ্ত- বিস্মৃত দেয়ালের ‘পরে আজ আর আমাদের চুম্বনগুলো প্রজাপতি হয়ে বসে থাকে না। তোমার হাসির শব্দে ঝলকেই উড়ে না ঘরভর্তি জোনাকি- ঝিকিনিকি। মৃতপ্রায় ক্রাক্টাসে জল ঢালার কেউ নেই।
আমি তবু আসি তোমার স্মৃতির নগরে, ঘুরে ঘুরে বাতাসের শিরায় লিখে দেই কিছু কথা।
অগ্রহায়ণ
অগ্রহয়ণের মতো নতুন ভাতের গন্ধ এলো,
আমি চাইতে দেখি, একি আকাশ ভরা কমল, কমল দিঘির মতো।
কাকতালীয় তুমি এলে, একি আকাশ ভরা তারা, তারার মতো ক্ষত।
নাই বলে তাই কই না কিছুই, ভারায় চড়ে আগুন ছোটে। কোন বহু দূর...
উক্তি ও আশাবাদ
কার্তিকের বাতাস বইছে গো চারদিকে
এত সুনসান তীব্র কষ্ট কেন?
রিক্ত হাতের মুঠোয় ক্লান্ত রেখা
কিসের আঘাতে চোখ ফালা ফালা যেন
গতিধারা যার দিঘির শালুক থেকে
আসল যে কিনা সংগ্রামে সংগ্রামে
কহ একবার কার পাপ নিয়ে বুকে
স্বাধীন মানুষ এসেছো কোথায় রেখে...
দিলাম আজকে কার্তিকে অভিশাপ
বাতাসে শব্দে শুধু পাপ শুধু পাপ
আসতেই হবে দেহের টানে দেহে
থামাতেই হবে সত্যের অপলাপ।
প্রেমিকা আমার বলি তোমাকেই শোনো,
থমকেই আছি তোমার বিরহে হেরে যাইনি কোনও
স্বৈরাচারের শেকলের তাড়া ধাঁয়,
আমি ছুটছি পথ থেকে পথে, হাঁটছি ভীষণ
পাপপোড়া দিন শেষ হয়ে যদি বসন্ত আসে
একতোড়া ফুল তুমি হাতে করে এনো।























