ফ্ল্যাটের ভেতর তিনশোর বেশি অজগর পালন, একজনের কারাদণ্ড
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : জুন ২৮, ২০২৬
চীনের পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশের তাইঝৌ শহরে একটি ফ্ল্যাটের ভেতর অবৈধভাবে ৩০০টির বেশি অজগর সাপ পালন করার অপরাধে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত।
ফ্ল্যাটটিতে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক ব্যবহার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ সাপের খামারের সন্ধান পায়। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জুনের শেষ দিকে এই ঘটনাটিকে বিরল ও বিপন্ন বন্যপ্রাণীর জন্য গুরুতর ক্ষতিকর অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
চীনের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পাইথন ‘গ্রেড-টু’ সুরক্ষিত প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত। সরকারি অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের সাপের প্রজনন, পরিবহন বা কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তদন্তকারীদের সূত্রমতে, ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের মার্চ মাসে। তাইঝৌ শহরের স্থানীয় একটি পাহাড়ের পাদদেশে এক বৃদ্ধ একটি বড় আকারের সাপ দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, ওই অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে এই প্রজাতির সাপ পাওয়া যায় না এবং মার্চ মাসে সাধারণত সাপ বনে এতটা সক্রিয় থাকে না। ফলে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, সাপটি কাছাকাছি কোনো ব্যক্তিগত সংগ্রহ বা খামার থেকে পালিয়ে এসেছে।
রহস্য উদঘাটনে পুলিশ একজন পেশাদার সাপ পালকের পরামর্শ নেয়। তিনি জানান, পাইথন বাঁচিয়ে রাখতে ঘরের তাপমাত্রা সার্বক্ষণিক ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং নির্দিষ্ট আর্দ্রতা বজায় রাখতে হয়। ফলে কৃত্রিম উপায়ে এত বিপুল সংখ্যক সাপ লালন-পালন করলে সেই ঘরের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি হওয়ার কথা।
এই সূত্রের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ আশপাশের বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য যাচাই শুরু করে এবং ‘গুয়ো’ নামের এক বেকার ও অবিবাহিত যুবকের ফ্ল্যাটে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রমাণ পায়।
অনুসন্ধানে পুলিশ আরও জানতে পারে, ‘দি’ নামের এক ব্যক্তি নিয়মিত গুয়োর ফ্ল্যাটে যাতায়াত করতেন এবং অনলাইনে বিপুল পরিমাণ সাদা ইঁদুরের পার্সেল সংগ্রহ করতেন, যা মূলত সরীসৃপ প্রাণীর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পাশাপাশি গুয়ো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাপের ছবি পোস্ট করতেন এবং পাইথন বিক্রির ইঙ্গিত দিতেন। তদন্তে এরই মধ্যে ১ হাজার ইউয়ানে (প্রায় ১৫০ মার্কিন ডলার) দুটি পাইথন বিক্রির একটি সুনির্দিষ্ট লেনদেনের তথ্যও পায় পুলিশ।
এসব অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ গুয়ো ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শেষে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে মূল অপরাধীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।























