মে দিবসের কবিতা

পুনর্মুদ্রণ

প্রকাশিত : মে ০১, ২০১৯

মে দিবসের কবিতা

সুভাষ মুখোপাধ্যায়

প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা,
চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য
কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া।

চিমনির মুখে শোনো সাইরেন-শঙ্খ,
গান গায় হাতুড়ি ও কাস্তে,
তিল তিল মরণেও জীবন অসংখ্য
জীবনকে চায় ভালবাসতে।

প্রণয়ের যৌতুক দাও প্রতিবন্ধে,
মরণের পণ নখদন্তে;
বন্ধন ঘুচে যাবে জাগবার ছন্দে,
উজ্জ্বল দিন দিক্-অন্তে।

শতাব্দী লাঞ্ছিত আর্তের কান্না
প্রতি নিঃশ্বাসে আনে লজ্জা;
মৃত্যুর ভয়ে ভীরু বসে থাকা, আর না—
পরো পরো যুদ্ধের সজ্জা।

প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
এসে গেছে ধ্বংসের বার্তা,
দুর্যোগে পথ হয় হোক দুর্বোধ্য
চিনে নেবে যৌবন-আত্মা।

আপনি বলুন, মার্কস

মল্লিকা সেনগুপ্ত

ছড়া যে বানিয়েছিল, কাঁথা বুনেছিল
দ্রাবিড় যে মেয়ে এসে গমবোনা শুরু করেছিল
আর্যপুরুষের ক্ষেতে, যে লালন করেছিল শিশু
সে যদি শ্রমিক নয়, শ্রম কাকে বলে?

আপনি বলুন মার্কস, কে শ্রমিক, কে শ্রমিক নয়
নতুন যন্ত্রের যারা মাস মাইনের কারিগর
শুধু তারা শ্রম করে!
শিল্পযুগ যাকে বস্তি উপহার দিল
সেই শ্রমিকগৃহিণী
প্রতিদিন জল তোলে, ঘর মোছে, খাবার বানায়
হাড়ভাঙা খাটুনির শেষে রাত হলে
ছেলেকে পিট্টি দিয়ে বসে বসে কাঁদে
সেও কি শ্রমিক নয়!
আপনি বলুন, মার্কস, শ্রম কাকে বলে!

গৃহশ্রমে মজুরি হয় না বলে মেয়েগুলি শুধু
ঘরে বসে বিপ্লবীর ভাত বেঁধে দেবে
আর কমরেড শুধু যার হাতে কাস্তে হাতুড়ি!
আপনাকে মানায় না এই অবিচার

কখনো বিপ্লব হলে
পৃথিবীতে স্বর্গরাজ্য হবে
শ্রেণিহীন রাষ্ট্রহীন আলো পৃথিবীর সেই দেশে
আপনি বলুন মার্কস, মেয়েরা কি বিপ্লবের সেবাদাসী হবে?

রাজধানী এক্সপ্রেস

ভাস্কর চৌধুরী

বেশ ভালো চলছে আমাদের
এই গণতন্ত্রায়ন
ইটফাটা দুপুরে রৌদ্রের ঘ্রাণ
মিনিম্যাক্সি রাস্তায়
বালকেরা ফটাফট ডাক দ্যায়
পাছার প্যান্টের শ্রী আর উপরে
দেশের ক্রিকেটের গেঞ্জি
ডাকে মিরপুর মিরপুর প্যাসেঞ্জার
তাদেরও ঘামের গন্ধ
ইটফাটা রোদে ভিজে চমৎকার
ফুটপাতমুক্ত স্বদেশে চার লক্ষ
বিক্রেতা বেকার
কালকের জোকারের হাতে আজ
সাফসুতরো ঢাকা
বাহ, বেশ
ইটফাটা রোদের পর বিকেলে
গরিবের হাট ফুটপাত ফাঁকা।