যুদ্ধবিরোধী কবিতা
পর্ব ১
অনুবাদ: রথো রাফিপ্রকাশিত : মে ১৯, ২০১৮
২০১৪ সালে যখন ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েল জলস্থলআকাশ থেকে বোমাবর্ষণ করছিল, সারাবিশ্বে ইসরায়েলি বর্বরতার যখন ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছিল, সেসময়েই এ কবিতাগুলো ভাষান্তর করেছিলেন নব্বই দশকের মেধাবী কবি রথো রাফি। কিন্তু এরপর কবিতাগুলো কোথাও তিনি প্রকাশ করেননি। ছাড়পত্রের পাঠকদের জন্যে ধারাবাহিকভাবে কবিতাগুলো প্রকাশ করা হলো:
ফাদুয়া তুকান (ফিলিস্তিন:১৯১৭-২০০৩)
গর্ভযন্ত্রণা
বাড়িঘর আর জমিজমার ধ্বংসাবশেষের আনাচে-কানাচে
পরাগরেণুগুলো ছড়িয়ে দেয় রাতের বাতাস।
জন্ম দেবার যন্ত্রণায়
আর কামনায় কাঁপতে থাকে পৃথিবীটা,
কিন্তু দখলদাররা চায় আমরা যেন
বিশ্বাস করি আপস আর সমর্পণে।
ও আরবের জ্যোতি!
আমাদের ভূমির দখলদারদের বলো
শিশুর জন্মদান বড়ো অপরিচিত তাদের কাছে,
অপরিচিত তাদের কাছে মায়ের শরীরের যন্ত্রণা,
তারা জানে না, ক্ষতবিক্ষত ভূমি
ভোরের মুহূর্তে
জীবনেরই সূচনা ঘটায়
ক্ষতের উপর যখন
রক্তের গোলাপ পুষ্পিত হয়।
নিদা খৌরি (ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি, ১৯৫৯)
স্টেশন
আমার ক্ষুধার পিছু নিয়ে
এক স্টেশনে এসে দাঁড়িয়ে আছি আমি
আমার হাতদুটি গমহীন বনপ্রান্তর
আর রুটিও নেই এক টুকরো
আমার ঊরুযুগল তালগাছ
অভিবাসী-খেজুরের চোষণে চোষণে নিঃশেষ
ক্ষুধার্ত মাছে ভরা আমার বুক
আর আমার কপালে লেখা দুর্ভাগ্যের এক জমিন
আমাকে তাড়া করছে তারা...
অরণ্য নয়, মরুভূমি নয়, সাগর নয়, এমনকি জমিজমাও নয়
এইতো আমার নতুনকালে পাওয়া নতুন মাতৃভূমি
জাকারিয়া মোহাম্মদ ( ফিলিস্তিন, ১৯৫১)
বাড়ি
অনেক পাখি মাথার উপর দিয়ে দ্রুত উড়ে যায়
বাড়ি বানানোর খড়কুটো তাদের ঠোঁটে
আমার এখনো বাড়ি বানানো হয়নি
আমি এখনো রোদ বৃষ্টির দেশে বাস করি
পাখিরা তাদের খড়কুটো নিয়ে উড়ে যাচ্ছে
তখন আমার ঠোঁট দুটি কিনা
ছোট্ট শিশুর মতো বলতে পারছে না ‘আ-মা-র বা-ড়ি’
ইব্রাহিম নাসরাল্লাহ (জর্ডান, ১৯৫৪)
জন্মভূমি
আমাদের সকালগুলোর জোয়ালের চাপে
গুঁড়োগুঁড়ো হয় সূর্য
আর আমাদের পদক্ষেপের নিরাশ-অন্ধকারে
চরমে ওঠে নাভিশ্বাস আমাদের
এইতো আধখেচরা জন্মভূমি আমাদের যেখানে মনে হয় না
যুদ্ধবন্দি ছাড়া আদৌ আরকিছু আমরা
ফাদুয়া তুকান (ফিলিস্তিন:১৯১৭-২০০৩)
বৃক্ষ ও নূহের প্লাবন
যখন তুফান পাক খেতে লাগলো
আর এর অন্ধকার শয়তানির মহাপ্লাবন
ছড়িয়ে দিলো এই শুভ সবুজ ভূমিজুড়ে
‘তারা’ আত্মতৃপ্ত হলো। পশ্চিমা আকাশ
প্রতিধ্বনিত হলো আনন্দের আলাপে:
‘গাছটা ভূ-পাতিত হয়েছে!
মূল দেহটিও গুঁড়িয়ে গেছে! তুফান এমনকি
একটা পাতাও রাখেনি গাছে!’
গাছটা কি আসলেই ভূ-পাতিত?
কখনো না! আমাদের আবহমান লাল স্রোতও যদি নিঃশেষ, তখনও না
আমাদের কাঁটাযুক্ত ডালপালার মদও যখন আর
শেকড়গুলোর তৃষ্ণা মেটায় না, তখনও না,
তখনও আরবের শেকড় জীবিত
এই দেশের অনেক অনেক গভীরে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ঢুকে গেছে!
যখন গাছটা উদিত হবে, ডালপালা
সবুজ হবে আবার, ফের তাজা হয়ে উঠবে রোদে
সূর্যের নিচে
পাতাপত্রে আবার ছড়িয়ে পড়বে গাছটার হাসি
আর পাখিরাও আসবে ফিরে
নিশ্চিত ফিরবে পাখিরা।
পাখিরা ফিরবে আবার।
চলবে























