যুদ্ধবিরোধী কবিতা
পর্ব ৫
অনুবাদ: রথো রাফিপ্রকাশিত : জুন ২৩, ২০১৮
২০১৪ সালে যখন ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েল জলস্থলআকাশ থেকে বোমাবর্ষণ করছিল, সারাবিশ্বে ইসরায়েলি বর্বরতার যখন ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছিল, সেসময়েই এ কবিতাগুলো ভাষান্তর করেছিলেন নব্বই দশকের মেধাবী কবি রথো রাফি। কিন্তু এরপর কবিতাগুলো কোথাও তিনি প্রকাশ করেননি। ছাড়পত্রের পাঠকদের জন্যে ধারাবাহিকভাবে কবিতাগুলো প্রকাশ করা হলো:
ওমর শাবানাহ
সপ্তম ইন্দ্রিয়
আজরাতে আসবে তারা
বাড়ির দেয়ালগুলো থেকে
কচি অঙ্কুরগুলোকে গ্রেফতার করতে করতে
পদ্ম আর জলপাইগুলোকে গ্রেফতার করতে করতে
গ্রেফতার করতে করতে গোলাপ কুঁড়িগুলোকে
গ্রেফতার করতে করতে রাতকে
গ্রেফতার করতে করতে লেবুজল
আমার বুক থেকে সুখের ওই বস্তু
ওই ঘুমের নৌকো
ওই বিশ্রামের কাপটা
আর ওই বেগুনিরঙা নাচটা
জগতটাকে গ্রেফতার করতে করতে
আজ রাতে আসবে তারা
আর শুধু রেখে যাবে
তাড়াখাওয়া দিগন্ত জুড়ে ওই আগুন
ইউসেফ আবেদ আল-আজিজ
সঙ্গীত
ঘরের মধ্যে
খুব দ্বিধাগ্রস্ত ফুল
তাদের পাখা ঝাপটায়
আমার পাশে লাফিয়ে ওঠে চেয়ার
আয়নার ভেতর ঢুকে পড়ে এক নারী
বাড়িটা ডুবে আছে
বিরামহীন বৃষ্টিতে
আর ঈশ্বরের কথা উজ্জ্বল করে
আমার বিমূঢ় ঠোঁটদুটি।
গাসান জাকতান (ফিলিস্তিন: ১৯৫৪)
গাইড
সে আঙুল তুলে দেখালো...
এ পথে।
আর মিলিয়ে গেল
বাড়ির ধ্বংসাবশেষের মাঝে
বিস্ফোরণের পর
দেয়ালের ফাঁকে তার আঙুলটা
তখনও নড়ছে:
এ পথে...
এ পথে।
নাথালি হান্ডাল
ফোন কল
আগুনের মধ্যে টেলিফোনের লাইটনটা
আর শিখার মধ্যে জ্বলছে আমার চাচাতোবোনের প্রাণ
সে তখন বলছে
দার আল-কলিমা সম্পর্কে
দখল হওয়া একটা স্কুল, প্রি-কে থেকে ১০ গ্রেড:
ইংরেজি ক্লাশরুমের দরজায় ২৪টা বুলেট
একটা দরজাও দাঁড়িয়ে নেই,
এই লুথারান স্কুলের সমস্ত ক্রুশ ধ্বংস হয়ে গেছে
আর ছোট্ট ইব্রাহিম, ১০ বছর বয়সের
এখন তার পেটের ভেতর ঘুমিয়ে রয়েছে
সেনাদের মার খেয়ে পিঠ তার ঘন নীল,
সাইকেল নিয়ে ছুটতে গেলে আটকানো হয় তাকে...
আমি শুনতে থাকি, আর আমার তোতলামির ফাঁকে ফাঁকে
আমার নিঃশ্বাস আটকে আসে
পারতাম যদি এই কল কোনোভাবে রেখে দিতে
এবং ৯১১ নম্বরে ডায়াল করতে
সাকিয়া বেগম
ফিলিস্তিনি শিশু
হাহাকার করো না, আমিতো মৃত,
কোনো কাজে আসে না চোখের জল।
স্থির হয়ে ভাবো আমি যা বলেছিলাম,
আর মনে রেখো, বড়ো তুচ্ছ এ জীবন।
যে জীবন করেছি যাপন শেখো তা থেকে,
ভুলো না কিভাবে আমি নিহত হলাম।
এক এতিম, ঘুমের বিছানা ছিল না যার,
এখন স্বর্গে আমি, আছি বড়ো শান্তিতে।
রুটি আর পানি ছাড়াই বাঁচতে হচ্ছে তাদের,
রক্ত ঝরছে এখনো ঘরের স্বজনদের গা থেকে।
এই চোখের জল যা ফেলছো তুমি,
ফেলো তাদের জন্য এখনো বেঁচে আছে যারা।
চলবে























