রসায়ন বিজ্ঞানী নীলরতন ধরের আজ জন্মদিন

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬

রসায়ন বিজ্ঞানী নীলরতন ধরের আজ জন্মদিন। ১৮৯২ সালের ২ জানুয়ারি যশোরে তার জন্ম। পিতা আইনজীবী প্রসন্নকুমার ধর। পিতামহ প্রেমচাঁদ ধর। মাতা ছিলেন যশোরের ফতেপুর জমিদার কুঞ্জবিহারী ঘোষের কন্যা নিরোদমোহিনী দেবী।

পিতা স্বদেশি আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। প্রসন্নকুমারের ছয় পুত্র ও তিন কন্যার মধ্যে নীলরতন ছিলেন তৃতীয়। ১৮৯৭ সালে পাঁচ বছর বয়সে স্থানীয় সরকারি জেলা বিদ্যালয়ে নীলরতনের পড়াশোনা শুরু হয়। নীলরতন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। শিক্ষা জীবনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সর্বস্তরেই প্রথম।

এমএসসিতে কলা ও বিজ্ঞান বিভাগ মিলিয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড নম্বর পেয়ে কুড়িটি স্বর্ণ পদক, গ্রিফিথ পুরস্কার ও এশিয়াটিক সোসাইটি প্রদত্ত পুরস্কার লাভ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে এমএসসি পড়ার সময়ই আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র ও আচার্য্য জগদীশচন্দ্র বসুর অধীনে গবেষণায় রত হন।

১৯১৫ সালে স্টেট স্কলারশিপ পেয়ে বিলেত যান। সেখানে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯১৭ সালে এবং প্যারিসের সরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯১৯ সালে ডিএসসি উপাধি লাভ করেন।

১৯১৯ সালে লন্ডন থেকে ফিরে আইইএস নির্বাচিত হয়ে এলাহাবাদ ম্যুর সেন্ট্রাল কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রধান হিসাবে যোগ দেন। তার জীবনের বিখ্যাত কাজ Induced and photochemical reaction.

আজীবন তিনি গবেষণার কাজে লিপ্ত থেকেছেন। ৯৪ বৎসর বয়সেও তার প্রিয় বিষয় Nitrogen Fixation নিয়ে গবেষণায় রত ছিলেন। তার মৌলিক গবেষণা পত্রের সংখ্যা ছয়শোর বেশি। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডক্টরেট এবং এসএহিল ও জিহিল স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছেন।

নোবেল পুরস্কার কমিটিতে ১৯৩৮, ১৯৪৭ ও ১৯৫২ সালে রসায়ন বিভাগে বিচারক ছিলেন। ভারতীয় বিজ্ঞান একাডেমীর তিনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এলাহাবাদে ইণ্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সের বাড়িটির জন্য তিনি ২০ লাখ টাকা ব্যয় করেন।

এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় পরে ১৯৪৯ সালে নীলরতন ধরের প্রথমা স্ত্রী বিজ্ঞানী সেইলা (শিলা) ধরের মৃত্যুর পর তার নামাঙ্কিত করে। নীলরতন অত্যন্ত মিতব্যয়ী জীবনযাপন করতেন। বিজ্ঞান গবেষণার জন্য বহু অর্থ দান করেন।

আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের নামে অধ্যাপক পদ ও আচার্য্য জগদীশচন্দ্র বসুর নামে লেকচারার পদ সৃষ্টি জন্যে তিনি এক লাখ টাকা দেন। চিত্তরঞ্জন সেবাসদনকে এক লাখ টাকা এবং তার সাত বছরের সম্পূর্ণ বেতন এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেন। ভারত সরকার তাকে `পদ্মশ্রী` খেতাব দিতে চাইলে তিনি তা বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখান করেন।

নীলরতন সরকার রচিত গ্রন্থগুলো হচ্ছে, আমাদের খাদ্য, জমির উর্বরতা বৃদ্ধির উপায়, নিউ কনসেপশন ইন বায়ো-কেমিস্ট্রি এবং ইনফ্লুয়েন্স অফ লাইট ইন সাম বায়ো-কেমিক্যাল প্রসেসেস। ৯৪ বৎসর বয়সে ১৯৮৬ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।