রাজীব জবরজংয়ের কবিতা ‘প্রতিদিন বারবার মরি’

প্রকাশিত : এপ্রিল ০৫, ২০২০

আমি আমার স্বদেশকে ভালোবেসে শুয়োরের খোয়াড় বলে গালি দিলে
তোমাকে বুঝে নিতে হবে, রাষ্ট্রপ্রধান সময়ের সঙ্গম ঘড়ি ভুলে গিয়ে
শুয়োরের পিঠে সওয়ার হয়েছিল বলে, তোমরা শুয়োর ভালোবাসতে শুরু করেছিলে
যদিও এই চট করে বুঝে ফেলার ক্ষমতা তোমার কখনোই ছিল না।
এই তো কিছুকাল আগে আমি যখন বলেছিলাম আমার কেবল ভাতের দাবি
তুমি বলেছিলে, আলু খাও, ভাতের উপর চাপ কমাও।
আমি আলু খেতে শুরু করেছিলাম। আমি আলুতে তৈয়ার নানান রকমের পদ রান্নায় পারদর্শী হয়ে উঠছিলাম।
তারপর রাষ্ট্রপ্রধান তুমিই বলেছিলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে ।
অথচ আবারো বললে, কম কম খাও, বেশি বাঁচো।
আমি কম কম খেয়ে বেশি বাঁচতে শিখে ফেলছিলাম ।
আমি যখন বেশি বেশি বেঁচে যাচ্ছিলাম,
তখন তুমি বললে, সঞ্চয় করো, সুখে থাকো।
আমি সঞ্চয় করে সুখে থাকতে চাইলাম।

রাষ্ট্রপ্রধান তুমিই বললে,
সঞ্চিত সম্পদ আমার কাছে জমা রাখো, নিরাপদে থাকবে।
আমি নিরাপদে থাকতে চাইলাম।
তুমিই বললে শোবার ঘরের নিরাপত্তা আমরাতো দেব না
আমি শোবার ঘরেই মরে যেতে শুরু করলাম।
এরপর থেকে আমি প্রতিদিনই কমবেশি বারবার মরি।
এভাবে বারবার মরতে মরতে তবুও যখন তুমি বলো আরামে দাঁড়াও,
তখন আমি শুনি এর পরই সাবধান।
সাবধান হতে হতে আমি দেখি, তুমি সুই সুতো ভুলে গিয়ে কেবল বুলেটে সেলাই করো।
কখনো সিরাজ, কখনো টুটু কী দারুণ ঝুলে আছে তোমাদের সুতোহীন সেলাইয়ে!

কী দারুণ তোমার সেলাইয়ের হাত, আহা।
রাষ্ট্রপ্রধান, একদিন তোমাদের মেশিনগানের বুলেটে আমাকেও সেলাই করে দিও আমার বাংলাদেশের মানচিত্রে।