লুনা আহমেদ
লুনা আহমেদের ৫ কবিতা
প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৯, ২০১৯
অপর নাম
আমাকে ভালোবাসো
আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখো, রাখো—
আঙুলের ভাঁজে আঙুল, হাতের ভাঁজে হাত, চোখ রাখো চোখের ভাঁজে।
ভালোবাসা সমুদ্র
উত্তাল ঢেউ, তারে তুমি পোষ মানা পাখি করে নাও
বাধ না মানুক, না শুনুক মানা
শুধু হৃদয়ের কাছে এসে
চুপটি মেরে বসে থাকুক প্রভুভক্ত কুকুর
ভালোবাসবে আর জ্বালাবে না?
পোড়াবে না ভেতর—
তা হয় নাকি?
ভালোবাসা আগুন
একবার জ্বলে উঠলে—
হাজার মনে সেই আগুনের তাপ ছড়িয়ে দিতে হয়।
২৭ নভেম্বর, ২০১৮
মূল্যায়ন
বরিশালের ফুটপাথ ধরে হেঁটে
দেখলাম— জিনিসপত্র বিক্রি করতে হকার বসেছে
কোথাও একটা মানুষ বিক্রির হকার নেই।
কারো ঝুড়িতে মানুষ— মানুষের মাথা— হাত কিংবা পা নেই
দুঃখ হলো চোখের, একজন হকারের সামনে
রাখা শূন্য ঝুড়িটায়— নিজেই উঠে বসলাম।
কেউ কিনলো না!
কত যে চোখ বরিশালের ফুটপাথে
কোনো চোখ ফিরেও তাকালো না।
তারপর আমারই চোখ
আমাকে বারবার দেখলো
দেখতে দেখতে থু থু ছিটিয়ে বললো, ছিঃ।
২১ আগস্ট, ২০১৯
বৃত্তাদি
জীবন হলো একটা, বৃত্ত
যার
কেন্দ্র থেকে পরিধি
পরিধি থেকে কেন্দ্র
এর বাইরে আমরা যেতে পারি না।
অথচ,
আমরা একে বর্গাকৃতি ধরে নিয়ে
চারকোণায় গিয়ে নিজেকে আটকাতে চাই।
অদ্ভুত হলেও সত্য
মুক্তি মেলে না।
না দেহের; না মনের।
ঘূর্ণন চলে; ঘুরতে থাকি
ক্লান্ত হই; থেমে যাই।
নিয়মের বাইরে যখন খুব অনিয়ম
তখন অসুস্থ হই।
প্রথমে আত্মা
পরে দেহ।
তারপর দুজনেই
কেন্দ্রে এসে জড়ো হয়।
আর ছোঁয়া হয় না পরিধিকে।
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
আর কিছুক্ষণ
এই তো আর কিছুক্ষণ
আর কিছুক্ষণ পরে যে ঘণ্টা বেজে উঠবে
সেটাই তোমার জীবনের ঘণ্টা
শুরু এবং শেষ হিসেবের সময় বুঝিয়ে দেবে
এদিকে সময় কিন্তু দৌড়াচ্ছে আর তুমি ঘুমাচ্ছো
ঘুম ভাঙলে দেখবে তুমি নিজেই ঘণ্টা হয়ে গেছো
বাজছো একা একা একলা একটা ঘরে।
২৯ আগস্ট, ২০১৯























