সংগৃহিত
শাহরুখ পিকলুর কবিতা ‘কিচ্ছু ভালো লাগছে না আমার’
প্রকাশিত : অক্টোবর ০২, ২০১৮
কিচ্ছু ভালো লাগছে না আমার
সৌরভ ছড়ানো বিরিয়ানি বা তেহারি,
চিংড়ি মাছের মালাইকারি
রুই মাঝের আস্ত মাথা- মুড়োঘন্ট,
রুপালি চকচকে ইলিশ, পদ্মার বা বার্মার,
নাহ্ ওসব ভাবলেও অসহ্য লাগছে,
কিচ্ছু ভালো লাগছে না আমার।
বোতল খাবে? বিদেশি মাল-
তেতো স্বাদে জীবনের মধু, মৃতসঞ্জিবনী, রঙিন পৃথিবী?
সিগারেটের চুমকি কাগজে পুড়িয়ে হেরোইনের শাদা ধোঁয়া?
কী যেন বলে সে কাগজকে? পান্নি নাকি?
বং দিয়ে শুষে নেবে লাল ইয়াবা্র ধূসর ধোঁয়া?
ঢগঢগ করে নাহয় এক বোতল ফেন্সি?
গাঁজা কিংবা চরস? চলবে তাতে?
সুঁচ দিয়ে বিষ গেঁথে দেই লাল রক্তে?
আপারস্ বা ডাউনারস্- সবই তো মেলে এই শহরে।
চুপ ব্যাটা, থাম, সাক্ষাত শয়তান!
দেবো একটা লাথি-
কিচ্ছু ভালো লাগছে না আমার।
শহরটাকেই অসহ্য লাগছে
অরণ্যকেই বা ফিরে চাই কোন মুখে?
গাড়ির বিকট হর্ণ
রিকশাওয়ালার ঘামে ভেজা জামা, বিকল মস্তিষ্ক
নেড়ি কুকুরের লোমছাড়া দেহের অদম্য কামনা
ঘেউ ঘেউ করে দুই ড্রাইভার, খামোখা ঝগড়া-
তোদের গাড়ি, ব্যাটারা?
চায়ের দোকানে পলিটিক্স
পার্টি অফিসে নীতি নেই আছে টাকার গপ্পো।
অফিসে কেরানির ঘুম, ব্যাংকে ডাকাতির প্রস্তুতি
মোল্লাদের বাড়াবাড়ি, হিজাবের ছড়াছড়ি,
আদিখ্যেতা-
ধর্মের কল বাতাসে আর নড়ে না।
অসহ্য লাগে, বমি আসে, বিবমিষা
কিচ্ছু ভালো লাগছে না আমার।
বন্যা আছে, বন্যা নেই, কুতর্কের ছড়াছড়ি
ত্রাণ আছে, খাদ্যগুদামে চাল আছে, বাজারে আগুন
ত্রাণ যাচ্ছে, কেউ পায়, কেউ পায় না,
মামা-চাচা আছে ব্যাটা তোদের,
ভোট দিবি তো আমার ডিব্বায়!
নাকি ফোকটে খেতে চাস, ব্যাটা!
চামড়া-ভেদি পাঁজরায় আর কারো মন ভোলে না
শোক দিবস, বার্ষিকি-পালন কি উৎসব-
সব পালনের রুটিন একটাই-
পা-চাটাদের আগুনঝরা কথার ফুলকি
খাওয়া-দাওয়া, বিরিয়ানির প্যাকেট
বিদেশি মদ, মদের নেশায় কত কী-
বক্তৃতা, মারামারি, খুনোখুনি
দিনশেষে চাঁদার টাকা ভাগ বাটোয়ারা-
গুলি, ছুরি, পেট-নামানো, বুকে ফুটো
হাহাকার, মায়ের কান্না, ক্রসফায়ার।
আহ্, অ্যাটম বোমা মেরে উড়িয়ে দেই সব চুকে যাক!
কিচ্ছু ভালো লাগছে না আমার।
মাথাটা ঘুরেই চলেছে কিন্তু পড়ছি না।
এ কী ব্যামো হলো আমার?
আর সবাই তো বেশ আছে।
যন্ত্রের মত যন্ত্রদানবের পেটে বসে আছে,
দানব ফোঁস ফোঁস করে, ভিতরে যন্ত্র ভুসভুসিয়ে ঘুমায়,
যেন চাবি দেওয়া পুতুল
রোজ সকালে কেউ চাবি দিয়ে যায়, সারাদিন চলে-
নিত্যদিন নতুন নতুন পুতুল জন্ম দেয় তারা,
তারা বড় হয়, খায়-হাগে-মোতে-দৈহিক মিলন ঘটায়,
চাকা ঘুরতে থাকে নিরন্তর। অসহ্য!
আমি কী তবে হারাধনের শেষ ছেলেটা?
কিন্তু মনের দুঃখে যে বনে যেতে পারছি না।
ইট-পাথর-মানুষের ঘিঞ্জি বনে তো একা ঘুরে বেড়ানো যায় না।
কিচ্ছু ভালো লাগছে না আমার।
ঢাকা ২৬শে অগাস্ট’২০১৭























