শাহরুখ পিকলুর কবিতা ‘খবরের কাগজ’

প্রকাশিত : অক্টোবর ১৪, ২০১৮

কেন সাতসকালে হুটোপুটি কাগজের জন্যে
সকালের প্রথম পেয়ালা চা ঠাণ্ডা করে?
সুন্দর করে মোড়া, কড়কড়ে
ভাঁজে ভাঁজে প্রকট বা লুকিয়ে থাকা
তাজা বা বাসি সব খবর,
কালির গন্ধে ভরে যায় ঘর, মন।
সে কালিতে দুর্গন্ধ, খবরের দুর্গন্ধ
শুকোয়নি এখনো, আঙুলে লেগে থাকে
ভেজা কালো কালো সে কালি
সারাটা দিনজুড়ে, বাকি জীবন।

ল্যাপটপের পর্দা উঠিয়ে বা স্মার্টফোনে
নিউজস্ট্যান্ড থেকে উঠিয়ে কিম্বা
দেয়ালে সেঁটে দেয়া স্যাঁতসেঁতে কাগজে
সেই তো কদর্য সব খবর!

এইমাত্র পাওয়া গরম খবর:
ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণ
রাহাজানি, গুম
মিথ্যে অভিযোগ, বানানো রটনা,
ছেলের হাতে বাপের মৃত্যু,
বাচ্চাদের উপর শত নির্যাতন,
তাদের খুন, বেশ্যাবৃত্তিতে বাধ্য করা,
অথবা বিয়ে নামের শৃংখল পরিয়ে দেয়া।
লোমহর্ষক বিভীষিকা, ঈমানদণ্ডের চাপাতি
সব শালা বিধর্মীর কল্লা চাই
খোদার আসন ঠিক রাখো রে, মুমিন!

ঘুষের অতিভোজনে আইনের বদহজম
অসময়ে শেষ করে দেয়া পুরো জীবনের অঙ্গীকার।
পচে যাওয়া রাজনীতি, পচা সব অনাদর্শ!
যত্তসব রদ্দি বুলি, ব্যাংকের পেট কেটে
নাড়ি-ভুঁড়ি সব বাইরে, পাবলিক চেয়ে থাকে
টাকা উড়াল দেয় সেই সেই স্বপ্নের দেশে।
সে সুদূর স্বর্গে বাড়ি হয়, সে বাড়ির লনে
সবুজ ঘাস জেগে ওঠে শিশিরের চাদর জড়িয়ে
রাবিশ! হুঙ্কার শুনে নেতিয়ে যায় পাবলিক
দশ টাকার পণ্য বিশে কিনে বিষ খেয়ে
অকালে পটল তুলে মুক্তি পায় যেন।

চোরেরা মদের ঘোর কাটিয়ে ফজর পড়ে
হু হু করে কেঁদে ওঠে মৃত্যুচিন্তায়
দু’হাত উজাড় করে মুদ্রা বিলায়
একেই বলে সমাজসেবা, নাকি!
দূর মরুভূমির পূণ্যভুমিতে ছুটে যায়
ঘরের কাছের ভূমিটা মানুষটা যেন উচ্ছিষ্ট!
কালো চতুষ্কোণের ছ্যাঁচা খেয়ে বিশুদ্ধ হয়ে
আবার লুটতে উদ্যত হয় সব
নতুন করে বুভুক্ষু তারা, খেতে খেতে
খেয়ে ফেলে গরিবের পশ্চাতের কাপড়টুকুও।

আত্মগরিমায় বিমুগ্ধ চেতনাব্যবসায়ী
ধর্ম-বর্ণ-ভাষা-দলদাসত্ব সবই পুঁজি
এই নিওলিবারাল উন্মুক্ত বাজারে
বামের ক্ষীণ উঁকিকে মারে লাথি,
শালারে পয়সা দিয়ে টইটম্বুর কর
ধর শালারে মোড়ের মাথায়।

যুদ্ধ, জেনারেলের চকচকে মেডেল
জোয়ান বেয়াক্কেলের রক্তঝরা উর্দি
স্টেজে উঠে চিৎকারো ফতোয়া
নইলে সামাজিক মাধ্যম তো আছেই
রক্ত দে, জান দে, নওজোয়ান
এই দুনিয়া তো দুনিয়া না!

সাধারণ সেই সাধারণই থেকে যায়
খামোখা পয়সা দিয়ে খবর কেনে
নিজেরাই যে খবর তা বোঝে না
নিজেরাই নিজেদের কেনে
তবুও আশার কুহেলিকায় বিশ্বাস করে
যুগ যুগ ধরে, কতদিন আর!


ঢাকা
১৪ অক্টোবর ২০১৮