শিমুল বাশারের একগুচ্ছ কবিতা
প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৮
ধুতরার ফল
ধুতরার কাছে যাই
ফুটেছে শাদা শাদা বিনাশী ফুল
যত্নে রাখা অবহেলার রূপকথা
ব্যথা, ব্যাকুলতার প্রিয় গাঁথা...
জীবনের ঝোঁপঝাড়ে আহা, এইটুকু পেয়েছি ঠাঁই
দম বন্ধ করে
নীরবে দাঁড়াই,
হাতের তালু ভরে শৈশবের খেলা
চমকের রক্ত নামাই।
আমাদের তবু আছে কতকিছু...
নাবিস্কো পাইনাপেল বিস্কুট, দুধ সেমাই
সুপিদীর ইশারা
ওড়নার নিচে লুকিয়ে রাখা চার আনার লজেন্স
পাড়াগাঁয়ে বেড়াতে আসা আদুরে জামাই
টিফিনে বকুলের আইসক্রিম এক চুমুক
পাখির হারানো পালক
বইয়ের ভাঁজে নিবিড় উষ্ণতায় জমেছে... জমুক।
ওই দুরে আজো হ্যাজাক বাতি জ্বলে
কার ঘরে, কার ঘর আলো হয়ে থাকে?
মেঠোপথে লাঠি হাতে
জীবনের মধু নিয়ে আসে নানি
নানি, নানিগো, কেন যে আজো
ছিঁড়ে ছিঁড়ে ধুতরার ফল খাই
বারবার পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়াই!
মাটি জল হাওয়ায়
বেঁচে থেকে আমরা প্রতিদিন মরে যাই
মরে গিয়ে আবার দারুণ বেঁচে যাই।
চন্দ্রকলা রাত
জ্যোছনা ভরা জাদুর রাতে
মেঘের নদীতে
থমকে থাকে অপার্থিব চাঁদ।
ভেজা মাটি শুঁকে শুঁকে শেষরাতে
বন্য শুকর আসে...
লাবণ্যের উচ্ছিষ্ট নিয়ে হাতে
আমরা পুরনো কলের গান
জলের গন্ধ মুছে
হাতে হাত রেখে পাহাড়ি হলুদের জুমে নামি ধীরে
চোখে চোখ রেখে দেখি,
অমৃতা, মানদা, পুষা
তুষ্টি, শশিনী, পুষ্টি
ধৃতি, কান্তি, প্রীতি, রতির ষোড়শ কলা।
জানো নাকি, প্রবল নিবিড় নিশিরাত
প্রাণে প্রাণে আহা!
জীবনের কত কথা থাকে
ভালোবাসা, ব্যথা, বঞ্চনা আর গ্লানি নিয়ে বুকে
কিছু কথা নিত্য থেকে যায় একেবারেই না-বলা।
জোছনায় রাঙা এমন পুরাতত্ত্বের কালে
মেঘের নদীতে জাগে চন্দ্রকলা রাত।
নগ্ন নিরাপদ পা
ভাসতে ভাসতে
কোথায় ডুবে যেতে হয় আর
কোথায় ওঠতে হয় জেগে
খড়কুটো ধরে
আমি সেই নিশা ফেলে গেছি জলে
এই কালস্রোতে
আমাকে ভাসাতে চেয়োনা স্রোতস্বিনী।
নগ্ন নিরাপদ পা ডুবিয়ে
উত্তাপ ছুঁয়ে ঠিক চলে যাব দূরে
উত্তরে কিংবা দক্ষিণে
আমার উষ্ণ কাবা আছে
আমি জানি, আমি মানি তারে।
নীল নক্ষত্রের রাতে
ডানার নিচের উষ্ণ নরম পালক
যত্নে তুলে দেই তার হাতে,
কোমল অনিশ্চিত এই জীবনে
অলিখিত ভবিষ্যতের মতো
আগুন নিয়ে আগুন দিয়ে
উনুনের সাথে খেলি
নীল নক্ষত্রের রাতে।
ভোরের আবেগ
হাওয়ার সাথে জলকণা হয়ে ভাসি
দিগন্ত ছাওয়া মেঘ
ভোরের আবেগ
ভেঙে যাওয়া বুক
একলা চিবুক
নদীর কাছে খুলে দিয়ে আসি।
এই শহরে
আলো ছায়া মেঘে ঢাকা এই শহরে প্রতিদিন ভোর নামে
মায়ের মুখ, প্রেমিকার হাসি, হাওয়া আসা খোলা জানালায়
হাত বাড়িয়ে ছুঁতে চাওয়ার আবেগ, স্বপ্ন, বোধ
বিশীর্ণ গাছে থেমে আছে।
আমাদের আস্থা, আমাদের কল্পনা, বিশ্বাস
হয়তো বাস্তবতার বাইরের ইষৎ অতিরিক্ত কিছু
কিংবা আমাদের রুপালি কবিতারা
সেই কবে ধীরে সব মুছে গেছে।
জানো নাকি কত শত শতাব্দী আগে
ঘরে ঘরে জন্ম নেয়া আমাদের প্রিয় পশুপাখিরা
মানুষের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে বোবা হয়ে গেছে চিরতরে?
তবুও প্রতিদিন ভোর আসে
শাশ্বত সূর্য পূবাকাশে হাসে।























