শিমুল বাশার
শিমুল বাশারের প্রেমের ৪ কবিতা
প্রকাশিত : মার্চ ০৫, ২০২০
ঝুল বারান্দায়
একবার ভালোবাসা মিলে গেলে পরে
দিনদুপুরে পাখিকে দিও
আমার দুটি চোখ,
খুবলে নিতে দিও আদুর
রক্ত মাংস দেহ।
জোছনার রাতে
শুধু ক্ষীণ হাসিটাকে
জমিয়ে রেখো যতন করে
তোমার প্রিয় হাসির পাশে
ঝুল বারান্দায়।
কবিতার ঘ্রাণ
প্রজাপতির খসে যাওয়া
ডানা হয়ে অগোচরে
প্রণয় আকুতিগুলো সব
নক্ষত্রের হাসির আঘাতে
ছিড়েখুঁড়ে প্রতিরাতে মিশে যায় শুধু
লীলায়িত যুবতীর ঠোঁটে।
এই পুড়ে যাওয়া শহর
মলিন ল্যামপোস্টের নিরেট আলোয়
ঝুলে থাকে দুঃসহ দুর্নিবার কালে।
নাগরিক যুবকেরা মাতাল কৌশলে
চুষে নেয় বৃন্তচ্যুত অযুত নিযুত
কবিতার ঘ্রাণ।
তবু ওষ্ঠে তোমার উন্মুখ বাসনার ঝাঁক
মেখে থাকে শুধু
গভীরে দাগ কাটে না কিছু।
জানি আমি এই পৃথিবীর
পথে হেঁটে হেঁটে...
কত গোপন ব্যথা, আবেগ আকুলতা
ব্যয় হয়ে যায় গহীনে জমানো কথা।
বেদনার বুদ্বুদের মতো
আমি উড়ি শুধু
তুমি জানালায়
বন্দুক নলের মতো ঠোঁট গোল করো,
ফুঁ দিয় উড়িয়ে দিয়ে যাও
বসন্ত কাতর ঝরাপাতা।
কলাবাগান
সন্ধ্যার কলাবাগানে আমার দুচোখ
ফুল হয়ে ঝুলে থাকবে তোমার চুলে।
একবার পরশ পাব বলে অন্ধ আরশ থেকে
তোমার হাতের নরম কোমল পাতা
গঙ্গাহৃদির হাতির পিঠে রঙিন আলোর পাঞ্জা হয়ে
মেঘ কাজলে আসবে নেমে।
শাপলা শাপলা হাসিগুলো
রাত্রিভর বাঁশি হয়ে আজ
গেয়ে যাবে প্রণয়পীড়িত গান।
আমাদের হৃদয় ক্লান্ত উঠান
দূরে দাঁড়িয়ে আমি মাতম করি
আঁচল খুলে সখি তুমি ছড়িয়ে দিও
জুঁই ফুলেদের ঘ্রাণ...
কী দারুণ এই সন্ধ্যার কলাবাগান!
স্মৃতিফুল গাছ
প্রণয়ের ছবি যেন স্মৃতিফুল গাছ স্নিগ্ধতার হাসি,
জোছনায় ভেজা স্বপ্নময় চোখ
গভীর রাতের একজোড়া মাছ।
আমাদের মন গঙ্গাহৃদি
জাদু বাস্তবতার হাট,
বেদনা ভরা দিনের শেষে
আজ মধুমাখা সন্ধ্যা আসে।
তুমি আর তুমি দাঁড়িয়ে দুতীরে মাঝখানে অন্তহীন নদী
আমি ছুটে চলি যেন দিশেহারা মাঝি
বৈঠার আঘাতে রক্ত জল
ছলকে চলুক নিরবধি।























