সজীব দে

সজীব দে

সজীব দে’র কবিতাগুচ্ছ

প্রকাশিত : নভেম্বর ২৩, ২০১৯

অরণি, আমার সংবাদ তুমি পাবে না

বহু বছর পর যখন তোমায় ফিরে পেলাম
দেখি তুমি রাধা।
এতকাল তোমার নাম জপেছি
তোমার আঙুল ছুঁয়ে দেখবো বলে!

মৃন্ময়ী,
কেবলি তোমার নামে ইতিহাস লিখে যাব আমারই বদনামের।
রক্তে তো সঞ্চালিকা তোমার অধরের বিষের ঝর্ণা।

শোনো তবে সেই গল্প,
রাতঘোরে পড়ে যখন টের পাই,
তোমার মৃদু চোখ আমার চোখের উপর শুয়ে পড়ে, আর
আমি তোমার চোখে দেখি। কেননা আমার চোখ বলে কিছু নেই
সে কথা বলেছে এক গঙ্গাফড়িং।
অরণি, আমার সংবাদ তুমি পাবে না
সেই কবে নিয়ে গেছে বিকেলের খরগোস!

তুমিতো আর এলে না!
প্রথমবারের কথা মনে রেখে চুপিচুপি কুয়াশায় বন্দি হলে।
এখন তো শীত, তোমার চাঁদরের গন্ধ পাই মাঝে মাঝে
আদতে তোমার গায়েরই গন্ধ।
পূর্ব বাংলার গন্ধ নিয়ে তুমি গেলে স্ক্যান্ডিনেভিয়া।
আর, আমার থাকায় একরাশ শিউলির সুবাস এখনো হাতের মুঠোয়।

আর সেই খরগোসটা মিহি সুরে কোথায় যেন গান গেয়ে বেড়ায়।

কান পেতেছি সমস্ত চরাচরে
ভৌগলিক সীমানা ভেঙে আমিও রোদ নিয়ে ছায়া হয়ে যাব।
মীনাক্ষী সযতনে ড্রয়ার থেকে তার মাথাটা খুলে আমার টেবিলের কফির মগের পাশে রাখে।
আর কয়েকটা নাম-ঠিকানা বিহীন চিঠি খুলে পড়ে থাকে বাতাসে উড়ে যাবে বলে।
একজন নাপিত আর একজন হরিজন পৃথিবীকে নাকচ করে দেয় এই বলে, এখানে আর মানুষ কই!
তখন মীনাক্ষীর মুণ্ডুহীন গলা থেকে ফিনকি দিয়ে বের হয়ে আসা রক্ত আমার কফির মগে জমা হয়।
মেঘের মাঝে যে মাছ সাঁতার কাটে সে মেটাবলিক অ্যাবসার্ড ছবিটি যখন
তোমার বুকে আঁকা হয় কোনো এক সন্ধ্যায় তখন আমার দ্রুত জ্বর সেরে যায়।
আরেক দিন, তোমাকে দেখেছিলাম কুয়াশায় মোড়ানো একতলা সাদা বাড়িটি থেকে বের হয়ে আসছ।
খুব সম্ভব সেদিন তোমার পরি হয়ে যাবার সকাল। এবং
সঙ্গত কারণে পাঠিকা এ কথা বিশ্বাস করবে না, আর
আমাকে চতুর হয়ে নতুন কোনও গল্প ফাঁদতে হবে যেনবা পাঠিকা নিজেই এক ভোরে পরি হয়ে যায়।
এও সঙ্গত নয়, কারো বুকের ভেতর একটা শোল মাছ সাঁতার কাটে।
অতএব, আমার ঘোর লাগানো জ্বর আর কোনোদিন সারেনি।

টাইম অব জিপসি

অনেকগুলি মানুষ একসাথে উলঙ্গ হয়ে প্রধান রাস্তা দিয়ে হেঁটে যায়। তাদের মুখে মুখে গান ছিল ব্যকুলতার, প্রেমের আর কামের।

যারা কখনও একা হয় না
তারা দৃশ্যত পণ্য হয়ে ওঠে।
দুটি বিপরীত বিষয়
কন্ট্রোভার্সিয়াল হলে তা থেকে উদ্গারিত হয় মহুয়া।
আচ্ছা, তোমার মুখ এত সাদা কেন?
—সিগারেট আফ্টার সেক্স ইন ঢাকা।
বনে যাবে না?
—না।
কেন?
—আমার পছন্দ ঘর আর ব্যাবিলনের বারান্দা।
কিন্তু ও রকম বারান্দা কই পাব?
—তোমার দুই হাত।
মানে?
—দুই হাত তোলো আকাশের দিকে। আমি তোমার পা বেয়ে বেয়ে হাতের আঙুলে বসে আকাশ দেখবো।

সাইকোলজিক্যাল গোয়ের্নিকা

 

ও বাড়ন্ত মেয়ে আমার, ধীবর আমি কুয়াশায় ভেসে গেছি তোমার কাছে। দূর বালক বলেছিলে একদিন।
ও মেয়ে আমার, ৩৮ এ যখন মিরাকলি ২১ মনে হবে
মারিয়া রিলকে ছিলাম রোদ মেখে শরীর জুড়ে
আপেল বাগানে দেখা হবে তোমার আমার।
শেষ নেই জানো তো, একবার জাহাজে করে গিয়েছিলাম অনেক বন্দরে।
সেখানে এক জোড়া পাখি ছেড়ে এসেছিলাম।

ও বাড়ন্ত মেয়ে আমার, শীত সন্ধ্যায়
একদিন ইলশে বৃষ্টি হলে কামনায় বুকে নেব তোমার লাল কার্ডিগান।
যতটা মানুষ তার চে কম কিছু—
বন্দনার মাঝে যে আলোর পথ
সে পথে একবার গিয়েছিল সুপ্রিয়।
যেদিন সুপ্রিয় ফিরে এলো
আকাশের সাদা ঘোড়ায় আমি তাকিয়ে ছিলাম।
থেমে আমার কাছে এলো। আমি তার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি, গাল দুটো অসম্ভব লাল। যেন কেউ রঙ মেখে দিয়েছে।

বলে সে, বন্দনাকে আমি ছুঁয়ে দেখেছি
ওর কোনও রূপ নেই যেন জল
তুই ডুব দিতে পারবি
এখানে হারিয়ে গেলে
তুই নিজেকে আর দেখতে পারবি না।
আয়নাতেও না।
বলেছিলাম, আমি বন্দনায় যাব না।
কৃষাণির হাতে বন্দি হবো।
ডুব দেব আউসের ক্ষেতে।