সজীব দে’র দীর্ঘকবিতা ‘গরু ও শুকরের পূর্বপুরুষের পাঁজি’

প্রকাশিত : মে ৩১, ২০২০

প্রেমিকার সাথে দেখা না হবার দরুণ একশোজন লোক গরু ও শুকরে রূপান্তরিত হয়:

ইমেজ বুক
স্বপ্ন
ইল্যুশন
গরু ও শুকরের পূর্বপুরুষের পাঁজি
রঙ
কিছু আগুন
একটা বন
অবশেষে স্মৃতির খুন ও গোলকধাঁধার ভেতর একটি চাবি ঝুলে আছে রঙমহলের রানির কোমরে। যার রক্ত গাঢ় সবুজ। আর তিনি পান করেন পোর্ট ওয়াইন। তার নাম ইরা।

সব কিছুর সাথে সব কিছুর আশ্চর্য মিল আছে। যেখান থেকেই আপনি শুরু করেন না কেন। ইরা পালংকে শুয়ে আছেন। তিনি একমাত্র নারী যার গর্ভে জন্ম নেব সাতটা আমি।

যশোর রোড। সারি সারি গাছ।
ভোর একটা সবুজ আলো
মিথ্যে ইতিহাস মৃত হাজারও
ফিনিক্স।

এবং
যে আমি লিখছি, সে আমারই পিতামহ দাগুরাম।
তিনি হুক্কা টানতে টানতে বৈঠকখানায় বসে জানাচ্ছেন ইরার কথা। কিছুলোক তন্দ্রালু চোখে শুনতে শুনতে ইরার সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হতে থাকে। এবং সঙ্গম শেষে প্রত্যেকে তৃপ্তির সাথে বীর্য নির্গমনের যে মুখচ্ছবি এঁকে দেয়, সেই ছবি এঁকে ফেলেন সুলতান।
সুলতান নাচেন কালি বেশে।

কিছুই আর নির্দিষ্ট হয় না।
বোর চলে গেল অথচ তুমি সকালে জানিয়েছিলে আজ দেখা হবে করোনার বন্দিদশা কাটিয়ে
আর দেখা হয়নি আমাদের শেষবিকেলে
আমাদের যে রাস্তায় দেখা হবার কথা ছিল
সে ছিল বিষণ্ণ
আমি যে ফুল তোমার খোঁপায় দেব বলে ভেবেছিলাম
সারা দিনমান সে ফুল শুকিয়ে গেল একা একা

কিংবা চায়ের দোকানদার সন্ধ্যায় স্বপ্নালু চোখে অপেক্ষা করেছিল নিয়ন বাতির আলোয়
সব অপেক্ষা অবশ হয়ে গেল
আর আমি দালির মতো স্যুরিয়ালিস্ট হয়ে রাস্তায় রাস্তায় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে গান গাইছিলাম।

প্রচণ্ড ক্ষ্যাপার মতো বলি, আর প্রয়োজন নেই স্নিগ্ধ মুখ হাত গাল। বরং অপিয়ামে বুঁদ হয়ে রিকুলিয়েম ফর্ম ড্রীমে নিজেকে দেখি কেরুয়াকের জামকাট গদ্যে

আহা, কীসব আহাজারি করছিল কিয়লস্কি কিংবা গোদারের দ্য ইমেজ বুক কি শেষ ছবি আইডিয়ার শেষ লাইন। আবার শুরু হয় এক নব্য গল্প লিখিয়ের কুরোয়োশার ড্রীমের দ্বিতীয় সিক্যুয়ালের কিংবা ৫০ হাজার পেজের যে বইটির কথা বর্হেস বলেছিল সেটি উদ্ধার করতে এক যুবতীর স্বপ্নের দিক-নির্দেশনা প্রয়োজন হয়।

অথচ যুবতীটি রাতের শেষভাগে আত্মহত্যা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাফিয়ে। মহাজাগতিক শান্তি নিয়ে আসে বালকের ঘুমে। এই বালক ভবিষৎ দ্রষ্টা হিসেবে একদিন আমাদের সামনে আবির্ভূত হবেন। অন্ধ চোখে তার চারপাশে কাটা মুণ্ডু আর আর মুরগির সালুন।

তিনি বসে আছেন। তার সামনে কিছু মানুষ অমোঘ বাণী শুনার জন্য বসে আছে। তখন বালকটি বলেন, কেন এসেছেন আপনারা আমার কাছে? সমস্বরে মানুষ বলে ওঠে, হে প্রভু, পথ নির্দেশ করেন। তখন বালকটি বলে, হে মহামতি জনগণ, আমার কোনও পথ জানা নাই। সবাই আপনারা নিজ নিজ পথের সন্ধান করুন। বেরিয়ে পড়েন পথে। মানুষের সাথে সবাই মিলে মানুষের ভা্লবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলুন। আর এটাই একমাত্র পথ আপনাদের মুক্তির।

তখন দলে দলে মানুষ বালকটিকে মারতে আসে এবং প্রচণ্ড ধারালো ছুরি দিয়ে জমায়েত লোকজন বালকটিকে ক্ষতবিক্ষত করে মেরে পাহাড়ি নদীতে ভাসিয়ে দেয়। মৃত্যুর উন্মাদনায় তারা নাচতে নাচতে আস্ত গরু-শুকর মেরে আগুনে জ্বলসিয়ে সারারাত পান করে।

পরের দিন সূর্য উঠলে যখন তাদের ঘুম ভাঙে, সকল ‍গরু আর শুকরে রূপান্তরিত হয়।  আরেক দল পর্যটক সেখানে মাত্র এসে পৌঁছেছে। তারাও খুঁজতেছিল ভালো গরু আর শুকর। এবং সুস্বাস্থ্যের গরু আর শুকর দেখে তারা আনন্দিত হয়।

রাতে বারবিকিউ করার উদ্দেশ্যে তারা শিকারে বেরিয়ে পড়ে। অবশেষে তারা শিকার করে নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে আসে। শরীর চামড়া ভালো করে ছাড়িয়ে ফায়ার প্লেস রেডি করে বাঁশে ঝুলিয়ে বারবিকিউ করে সুরা দিয়ে খুব তৃপ্তি সহকারে খায়।

সকাল হলে তারা সে জায়গা ছেড়ে চলে যায়। কিছু দূর গিয়ে বনটা পার হয় তারা দেখতে পায়, তাদের দলনেতা গরু হয়ে গেছে। সবাই আশ্চর্য হয়, একটু পর আরেকজন শুকর। এভাবে পুরো দলটা গরু আর শুকরে রূপান্তরিত হয়।