চিত্রকর্ম: Iryna Yermolova, United Kingdom
সজীব দে’র ৩ কবিতা
প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৪, ২০২০
বই, কোকেন অথবা হারমোনিয়াম
কেউ আর ভাসতে চায় না বলে আমি খুলে রেখেছি অগণিত বইয়ের পাতা।
উড়ছে সংলাপ আর বিদেহী আত্মা।
কেওয়াজ ঝিরঝির করছে মানুষের চোখে।
কেউ কি নিতে চাও গালিবের গোলাপ?
তবে এন্টিনায় বাতাস লাগুক।
মাথায় ও মগজে অবিন্যস্ত আপেক্ষিক লজিক।
হোক তবে শিরোনাম তোমার নাম
কেবল গান অসময়ে বৃষ্টি ঝরায় তোমার জানালার শার্শিতে।
মদ পানরত যুবতী ফেলে আসে বাবার দেয়া কসম।
আমাদের বইয়ের দোকানে আজকাল রুপবান আসে
রহিম কোনো বইকে ভালবেসে কিনা তারচে বেশি।
উৎসব নাই বলে লাশগুলো মলিন হয়ে যাচ্ছে।
পুরুষ অগণন শুক্রিট নিয়ে পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে যমুনার বিছানায়।
অতঃপর আবারও বইয়ের পাতা খুলে রাখি কৃষকের গান শোনাতে।
শেষে কৃষকের মৃত্যুতে শহরবাসীর অট্টালিকা গড়ে ওঠে।
ম্যাজিক কোথাও নাই তাই পপি ফুলে কোকেনই হয়।
আমরা বস্তুত নেশাহীন জীবন কাটাতে পারি না বলে
আমাদের ভাতের প্লেটে রঙিন ফুল আর মৃত মানুষের মাংসের ফ্রাই একাকার হয়ে যায়।
একদিন হ্যালুসিনেশনে এইসব উপাদেয় গান মিউজিকবিহীন বেজে ওঠে
আমাদের যোনির বিন্যস্ত হারমোনিয়ামে।
আগুনমুখি তলোয়ারের কাছে
যেদিন আবিষ্কার করি প্রতিদিন আমার মগজ কেটে যাচ্ছে
তখনো নামেনি আরো আমারই টুকরো টুকরো মাংস নিজে পরিবেশন করছি
চুপিসারে, এ যেন আত্মহননের প্রক্রিয়া।
হ্যাঁ, বসুন প্রিয় তাতানিয়া।
একটু কড়া তেলে ফ্রাই দেন হাতের দশ আঙুল
ওটা দারুণ ক্রিসপি হবে
আর সাথে চোখের স্যুপ
হ্যাঁ, আপনার জন্যই।
ও বন্ধু আমার, সামনের টেবিলে বসুন
আমার রন্ধনশালায় আপনার জন্য কলিজা ভোনা হচ্ছে
সময় বেশি লাগবে না।
মেধা, আপনার তো পছন্দ পাজরের মাংস
ওটা দিয়ে রেজালা করে দেব।
রেজালা একটু ঝাল না হলে আপনি তো খেতে পারেন না।
আর হ্যাঁ, প্রিয় বুদ্ধিজীবী বন্ধু সকল
আপনাদের জন্য আমার রন্ধনশালায় পাকানো হচ্ছে মগজের কারি
শিশ্নের কাবাব, আমার পাছার মাংসের চাপ, রানের রোস্ট, নলির হালিম
আর বিশেষ আয়োজন হলো, হ্যাঁ মন্ত্রীমহোদয়,
আপনাদের জন্য বিশেষ আয়োজন আছে আমার অণ্ডকোষের দম বিরিয়ানি।
‘ধন্যবাদ আবার আসবেন’
এটা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য
ও আমার কালো প্রেমিকা,
আমার সারা গায়ে লুসিয়ার প্যারাডক্স মাত্রায় যন্ত্রণা
কখনও আমি ব্লা্ইন্ড চান্সের মতো কয়েকবার নতুন করে শুরু করেও
অথচ আমার শেষ হয় না যাত্রা
কিউলস্কিকে ফাঁকি দিয়ে রিলকের ডুয়ানো এলিজির ভেতর ঢুকে মিশরীর তরুণীর সাথে মল্লযুদ্ধে লিপ্ত হই
আর মনে মনে ফেলিপার স্তনজুড়ে মেক্সিকান কোকেন পাচার করি কবিদের নুনু এবং যোনিতে।























