সাঈফ ইবনে রফিক
সাঈফ ইবনে রফিকের ৬ কবিতা
প্রকাশিত : এপ্রিল ৩০, ২০২০
হে আল্লাহ
হে আল্লাহ
কবরে আমিতো নেই।
নিথর দেহ কি
তোমাকে স্মরণ করবে নিয়মিত?
দেহ নিয়ে নাও, আপত্তি নেই—
আমাকে নির্জীব রেখো না
নিষ্ক্রিয় আত্মায়।
আমি যেন তোমার নাম
জপে যেতে পারি—
চিরন্তন।
হজরত দাউদের (আ.) একটি দোয়া অবলম্বনে
প্রেস ফ্রিডম
কোনো বুড়ো ইঁদুরের ভয়ে—
গৃহপালিত বিড়াল
গুম করে দেবে
আমার মৃত্যুসংবাদ।
কেউ জানবে না
আমি মারা গেছি—
কিছু গুজবে বেঁচে থাকবো
মিথ হয়ে।
সোশ্যাল মিডিয়া ভাবছে—
মেইনস্ট্রিমে শোকসংবাদ না দেখলে
আমি নিজেও বিশ্বাস করবো না যে,
আমি মারা গেছি!
আমি করোনায় মরলে
আমি করোনায় মরলে আপনারা আমাকে সিঁড়িতে ফেলে রাখবেন।
আমার বউ-বাচ্চারা কাঁদতে থাকবে, কেউ এগিয়ে আসবে না।
তাদেরকে সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখা হবে।
দাফন হতে পারে, নাও হতে পারে।
একজন মানুষ
পাগল হওয়ার জন্য
হাইপার হওয়ার জন্য
ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালেন্সড হওয়ার জন্য
স্টোক করার জন্য
হার্ট অ্যাটাক করার জন্য
এই বাস্তবভিত্তিক কল্পনাটুকুই যথেষ্ট।
করোনার দরকার নাই, সে এমনিতেই মারা গেছে।
আলো আর ছায়া
সাদা পোশাকে লুকিয়ে থাকা
অন্ধকারে, কালো যে ছায়া—
তোমাকে অনুসরণ করছে
সেটা তুমি নিজেই তো?
নাকি অন্য কেউ?
তুমি বরং অন্ধকারেই
আলোর উৎস হাতড়ে বেড়াও।
জানো তো, আলো না থাকলে
ছায়ারা হারিয়ে যায়।
অথবা নিজেই আলো হয়ে ওঠো।
আলোদের ছায়া থাকে না
বিতর্কও নেই।
পাগল
কেউ কেউ জন্মগত পাগল
কেউ বা পাগলামি অর্জন করে
কেউ আবার এই দুই দলের সাথে পাগলামি করা সচেতন!
আমি মিশেল ফুঁকোর পাগলামি পড়ছি—
আমার ভেতরে তিনজনই আছে।
অমরত্বের লোভ
মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকতে চাই।
ভিআইপি নয়, অমর হতে চাই।
এই অমরত্বের লোভ—
আমাকে নির্মোহ করেছে
জাগতিক। হতে পারে, এও এক
মায়া; মানসিক রোগ!
আমি না থাকলে—
এই অশরীরী বেঁচে থাকায়
কী আসে যায়? এমন ভাবনায়
যারা বেড়ে উঠছে কীটপতঙ্গের মতো—
তাদের বাটখারায়
আমাকে মাপা ঠিক হবে না।























