সেই তুই; সত্যিই আজ অচেনা
অভ্রপ্রকাশিত : অক্টোবর ৩০, ২০১৮
Library-র ওই শেষ bench-টায় একটা সময় তুই এসে বসে থাকতিস ঘন্টার পর ঘন্টা। এই bookshelf, থরে থরে সাজানো বিশ্বব্রহ্মান্ডের তথ্য যতো, সব যেন মিলেমিশে তোর মুখ হয়ে যেতো। অনেকেই আসতো, কিন্তু বসতো খানিকক্ষণের জন্য। একটা বিশ্বাস ছিলো যে ওই প্রান্তটায় হতাশা নেই, দু:খ নেই; থাকার মধ্যে আছে কেবলই আশাদীপ। মায়া আছে ঢের বেশি। আমার চোখ দুটো যেন ওদেরই পলকগুলোকে ফাঁকি দিয়ে নিবদ্ধ থাকতে চাইছে ওই শেষ প্রান্তটায়। এই মায়াতে নিজের যৌবনের অর্ধেকটাই যেন দিয়েছিলাম নৈবেদ্যস্বরূপ। আমার চোখে ভেসে ওঠা অষ্টাদশী তুই ভীষণরকমই স্নিগ্ধ আর কোমল। তোর দুটো চোখে ছিলো যুগ-যুগান্তের অবসাদ আর মুহ্যমান এক শ্রান্তি;যেন ওরা বিশ্রাম চাইছে। সকাল-দুপুর আমি তোর সেই প্রগাঢ় চাহনিতে তোকেই খুঁজেছি, জেনেছি আর ভেবেছি ঢের বেশি। যতোগুলো বই সাদা হাতে ছুঁয়েছিলি তুই, shelf থেকে নামিয়ে আমিও ছুঁয়েছি সেগুলোর প্রতিটা। Library-র ওই শেষ bench-টা কেন্দ্র করে কতো স্বপ্ন, কতো খেয়াল, কতো লুন্ঠিত আবেগ অভিসারে চলে গেলো। কখনও কিছু বলতে গিয়েই তোর চোখে এক অদ্ভূত বিষাদ দেখেছি। তারপরও আবেগরা টলাতে পারেনি আমাকে। অনেক দিন হাসতে পারিনি তোর সাথে হাসবো বলে। আজ সাত বছর পর Mumbai থেকে বাড়ি ফিরে apartment-এর সামনে auto থেকে নামতে গিয়ে তোর মুখে দেখলাম এক উচ্ছ্বল হাসি: প্রেমে পড়লে নারী যে হাসিটা হাসে; অবিকল সেরকম। অচেনা এক যুবক তোর হাতটা ধরে আছে শক্ত করে, সাথে তোর মা-বাবা। `বিয়ে` কথাটাও শুনলাম যেন। কাঁটার মতো বিঁধলো কিছু একটা মনে। স্বজ্ঞানে তাই আজ প্রেম নিভিয়ে দিলাম, যে প্রেম জ্বলে উঠেছিলো যৌবনের সূচনায়।























