সেনাবাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ, সিরিয়ায় কারফিউ জারি

ছাড়পত্র ডেস্ক

প্রকাশিত : জানুয়ারি ০৯, ২০২৬

সেনাবাহিনী ও কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করায় সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের একাধিক এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

আলেপ্পো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ড বিবৃতিতে জানায়, আশরাফিয়েহ, শেখ মাকসুদ, বানি জেইদ, আল-সিরিয়ান, আল-হুল্লুক ও আল-মিদান এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর থাকবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কারফিউ চলাকালে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সব ধরনের চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

আলেপ্পোর মিডিয়া বিভাগের পরিচালক বলেন, “চলতি সপ্তাহের শুরুতে সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে আশরাফিয়েহ ও শেখ মাকসুদ এলাকা থেকে ১ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।”

৪৩ বছর বয়সী রানা ইসা বৃহস্পতিবার স্নাইপার হামলার আশঙ্কায় পরিবারসহ আশরাফিয়েহ এলাকা ছেড়েছেন। তিনি বলেন, “অনেক মানুষ এলাকা ছাড়তে চায়, কিন্তু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভয়ে পারছে না। আমরা খুব কঠিন সময় পার করেছি। আমার সন্তানরা ভয়ে কাঁপছিল।”

এই সংঘর্ষ এমন এক সময় ঘটছে যখন ২০২৫ সালের মার্চে স্বাক্ষরিত এসডিএফকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করার চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে দামেস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে পড়েছে। এসডিএফ দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

চলতি সপ্তাহে আলেপ্পোতে অন্তত ২২ জন নিহত এবং ১৭৩ জন আহত হয়েছে। সিরীয় সেনাবাহিনীর অভিযোগ, এসডিএফ বেসামরিক এলাকায় আর্টিলারি ও মর্টার হামলা চালিয়েছে। তবে এসডিএফ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সরকারপন্থি বাহিনীর নির্বিচার গোলাবর্ষণেই হতাহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানায়, এসডিএফ-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আশরাফিয়েহ এলাকা থেকে সরে যাওয়ার পর সেখানে সরকারি বাহিনী মোতায়েন শুরু করেছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এসব ইউনিট বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে কাজ করছে।

এসডিএফ কমান্ডার মাজলুম আবদি বলেন, “আলেপ্পোর সহিংসতা দামেস্ক সরকারের সঙ্গে চলমান আলোচনা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আলোচনা চলাকালেই কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় ট্যাংক ও আর্টিলারি মোতায়েন এবং বেসামরিকদের বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে।” সূত্র: আল জাজিরা, সানা ও এএফপি