হাসিনার বিরুদ্ধে পঞ্চাশের বেশি সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ
ছাড়পত্র ডেস্কপ্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৫
জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পঞ্চাশের বেশি সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন: বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আলোচিত প্রথম শহিদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজনহারা পরিবারের অনেক সদস্য। এছাড়া সাক্ষ্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নাহিদ ইসলাম, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান এবং রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ।
আজ বুধবার সাক্ষীর জবানবন্দি পেশ করবেন মামলার স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং অফিসার। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, এর দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। পৃথক দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব অভিযোগে দায়ের করা মামলার বিচারকাজ চলছে।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভিডিও বার্তায় বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেবেন এই মামলার স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং অফিসার। এই মামলার স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং অফিসার তার তদন্তকালে শেখ হাসিনার বেশ কয়েকটি ফোনালাপ জব্দ করেছেন। তিনি সাক্ষীতে কয়েকটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে বাজিয়ে শোনাবেন এবং সেই মর্মে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য প্রদান করবেন। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে তার জবানবন্দি ট্রাইব্যুনালের ওয়েবসাইটে এবং প্রত্যেকটি ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।”
এই মামলায় প্রসিকিউসনের পক্ষে শুনানি করছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এসএইচ তামিম। সেই সঙ্গে অপর প্রসিকিউটররা শুনানিতে উপস্থিত থাকেন। পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। এই মামলায় গ্রেফতার হয়ে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে আছেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এই মামলায় দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে (অ্যাপ্রোভার) রাজসাক্ষী হতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আবেদন মঞ্জুর করেন ট্র্যাইব্যুনাল। পরবর্তীতে এই মামলার রাজসাক্ষী হয়ে সাক্ষ্য দেন পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। ৩ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে এখনো পর্যন্ত চলছে।
এই মামলা ছাড়াও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের ঘটনায় তাকে আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলাটি হয়েছে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডে।























